নয়া জামানা,বালুরঘাট : আইপিএল ও অনলাইন গেমে বাজি ধরে বিপুল অঙ্কের ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন এক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। ঋণের কিস্তি মেটাতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। শেষমেশ শুক্রবার রাত থেকে তাঁর হদিশ মিলছে না। ছেলেকে শেষ বার্তায় লিখে গিয়েছেন, ভালো থাকিস, আমি ভালো বাবা হতে পারলাম না। এরপরই বালুরঘাট শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। শুক্রবার রাতে সরোজ রঞ্জন সেতুর কাছে আত্রেয়ী নদীর ধার থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ। এরপর থেকেই নদীতে চলছে টানা তল্লাশি। 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তির নাম পবিত্র সরকার (৪০)। বাড়ি বালুরঘাট শহরের উত্তমাশা এলাকায়। পেশায় তিনি একটি ওষুধ সংস্থার মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আইপিএল ও অনলাইন গেমে টাকা খাটিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পারায় বেশ কিছুদিন ধরেই প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি পবিত্র। রাতের দিকে ছেলের মোবাইলে ওই মর্মান্তিক বার্তা পাঠান তিনি। এরপরেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাড়ির লোকজন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। এরই মধ্যে দাদার সঙ্গেও ফোনে কথা হয় পবিত্রের, যেখানে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগ। এরপরই পরিবারের সদস্যরা বালুরঘাট থানায় গোটা বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ তল্লাশি শুরু করতেই সরোজ রঞ্জন সেতুর কাছে আত্রেয়ী নদীর পাড়ে মেলে তাঁর ব্যাগ, মোবাইল ও মানিব্যাগ।
এদিকে পবিত্রবাবুর স্ত্রী মৌতালি রাহা সরকার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, থানায় খবর দেওয়ার পরপরই যদি দ্রুত তল্লাশি অভিযান শুরু হত, তাহলে হয়তো আগেই স্বামীর সন্ধান মিলত।
শনিবার সারাদিন ডুবুরি নামিয়ে আত্রেয়ী নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও নিখোঁজ পবিত্র সরকারের কোনও খোঁজ মেলেনি। রাতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন — সকলেই উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন সদুত্তরের।
