নয়া জামানা:ভোরের ঘুম ভাঙল ভয়াবহ কম্পনে। মুহূর্তের মধ্যে কেঁপে উঠল কলম্বিয়া।শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।আহত হয়েছেন আরও ৮৭ জন।ধসে পড়েছে ৬১টিরও বেশি বহুতল ও বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ৭টা নাগাদ পশ্চিম কলম্বিয়ার চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল মাটির প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে।তীব্র কম্পন অনুভূত হয় কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়।কেঁপে ওঠে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর এবং পানামার বেশ কিছু এলাকাও।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কালি শহরে। মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, শহরের অন্তত ২০টি ভবন ভেঙে পড়েছে। কয়েকটি বাড়ির ভিতরে এখনও মানুষ আটকে রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে জোরকদমে চলছে অভিযান। বাসিন্দাদের সতর্ক করে প্রশাসন জানিয়েছে,বাড়িতে বড় ফাটল বা কাঠামোগত ক্ষতি দেখা গেলে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে।
ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর গোটা দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রশাসনের সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
ভূমিকম্পের জেরে কলম্বিয়ার পাঁচটি বিমানবন্দরে নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।শুধু চিকিৎসা ও সরকারি বিমানের জন্য সীমিত পরিষেবা চালু রয়েছে। পাশাপাশি মানিজালেস শহরের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও আপাতত সমস্ত ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।
একদিকে ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রাণের সন্ধান অন্যদিকে স্বজন হারানোর কান্না-ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে কার্যত বিপর্যস্ত কলম্বিয়া।