ব্রেকিং
[pj-news-ticker]
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • হালিশহরকাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, থানার আইসি ক্লোজ–আইও সাসপেন্ড! নিহতের স্ত্রীর মুখে শুধু এক দাবি—‘বিচার চাই’

হালিশহরকাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, থানার আইসি ক্লোজ–আইও সাসপেন্ড! নিহতের স্ত্রীর মুখে শুধু এক দাবি—‘বিচার চাই’

নয়া জামানা,উত্তর ২৪ পরগনা : পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হালিশহর। সোমবার নিহতের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগের দিন, রবিবার, ওই একই স্থানে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে....

হালিশহরকাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, থানার আইসি ক্লোজ–আইও সাসপেন্ড! নিহতের স্ত্রীর মুখে শুধু এক দাবি—‘বিচার চাই’

নয়া জামানা,উত্তর ২৪ পরগনা : পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হালিশহর। সোমবার নিহতের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা,উত্তর ২৪ পরগনা : পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হালিশহর। সোমবার নিহতের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগের দিন, রবিবার, ওই একই স্থানে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ পথে নামছে কালীঘাট তৃণমূল।



উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারকে গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, মেডিক্যাল টেস্টের সময় তিনি সুস্থ ছিলেন, কিন্তু গভীর রাতে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি অত্যাচারেই বিরজুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী নিজে এক সময় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী এবং কাঁচরাপাড়া পৌরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন বলে জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে সংবাদমাধ্যমের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখনও ৩ বছর হয়নি ছেলের, মেয়েটা ৮, আমি তাঁদের নিয়ে কীভাবে চলব ভবিষ্যতে?”



সোমবার সকালে মন্ত্রী অর্জুন সিং, সুমনা সরকার, স্থানীয় বিধায়ক, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বারাকপুরের সিপিকে সঙ্গে নিয়ে হালিশহরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এছাড়া মৃতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে চাকরি এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথাও জানান তিনি। সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিও তদন্ত করলেও, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এক্ষেত্রে জেলাশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাতের পর নিহতের স্ত্রী জানান, “উনি আমাদের বাচ্চাদের জন্য বলেছেন যে, যাতে আমি বাচ্চাদেরকে নিয়ে থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা উনি করে দেবেন। আমি তৃণমূল কর্মী ছিলাম, আমি একজন কাউন্সিলারও ছিলাম… তা সত্ত্বেও উনি এসেছেন, আমি তার জন্য চিরকৃতজ্ঞ। শুধু এই যে, আমার বিচারটা সবার আগে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “উনি এখন বিজেপি নন, উনি এখন জনসাধারণের মুখ্যমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে আমিও এখন বিরোধী পার্টি নই, আমি সাধারণ মানুষ। তো সেদিক থেকে আমি বিচার পাব বলে আশাবাদী। এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া, তবে আমার বিচার চাই।”

স্বামীর দেহে অত্যাচারের চিহ্ন নিয়ে অভিযোগপত্রে যা লেখা হয়েছে, তা তুলে ধরে স্ত্রী জানান, হাত-পা বেঁধে মারধরের ফলে রশির দাগ ছিল দেহে, পায়ের নিচের অংশ কালচে হয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে গরম জলের সংস্পর্শে আসার আলামত ছিল বলে তাঁর দাবি। পায়ে পেরেক ফোটানোর মতো দুটি ক্ষতচিহ্ন এবং কানের পেছনের অংশে জমাট রক্তও দেখা গিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই বিবরণ পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে জানানো, চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি।

স্ত্রীর অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর থেকে হাসপাতালে দেহ পৌঁছনো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশ প্রশাসনের তরফে পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি; যা কিছু জানার চেষ্টা তাঁরা নিজেরাই করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সব পুলিশই খারাপ, সেটা কোনওদিনই হতে পারে না। আমি হালিশহরের যে পুলিশ প্রশাসন আছে, তাঁদের উপর দোষটা দিচ্ছি। এই পুলিশের উপর আমরা সাধারণ মানুষ ভরসা না রাখলে, বিচার কী করে পাব? আমাকে ভরসা রাখতেই হবে।”

হালিশহরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মৃতের স্ত্রী তাঁকে একটি লিখিত চিঠি দিয়েছেন এবং মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেননি। তিনি দাবি করেন, বাংলার রাজনীতিতে অতীতে পুলিশি হেফাজতে বা রাজনৈতিক হেফাজতে একাধিক মৃত্যুর নজির থাকলেও, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীর বাড়িতে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার নজির আগে দেখা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।


বর্ধমানে আদিবাসী গৃহবধূকে ধর্ষণ ও খুন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নিহতের বাড়িতে মন্ত্রী

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর