অভিজিৎ চক্রবর্তী, নয়া জামানা, আলিপুরদুয়ার: গত বছরের ভয়াবহ বন্যার সময় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বন্যপ্রাণী উদ্ধারে অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া সাত জন বনকর্মী এবার রাজ্য বন দফতরের বিশেষ সম্মানে ভূষিত হতে চলেছেন। বন্যার দুর্যোগে হাতি ও গণ্ডারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে তাঁদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় এই স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। বন দফতরের এই উদ্যোগকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কর্মরত বনকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিকাশ খাড়িয়া ও রাজীব ওঁরাও। গত বছরের বন্যার সময় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে প্লাবনের মধ্যে আটকে পড়া হাতিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে তাঁরা অসীম সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন। প্রবল স্রোত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হাতিদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন। তাঁদের এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্যই বিশেষ সম্মানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কোচবিহার ও সংলগ্ন বন্যাকবলিত এলাকায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক গণ্ডারকে নিরাপদে উদ্ধার ও বনাঞ্চলে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে অসামান্য অবদান রাখেন আরও পাঁচ জন বনকর্মী। তাঁদের দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই উদ্ধার অভিযান সফল হয় বলে বন দফতর জানিয়েছে।
বিভাগীয় সূত্রের দাবি, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক বনকর্মীর সাহসিকতার বিস্তারিত বিবরণ রাজ্য বন দফতরের সুপারিশপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাঁদের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করা হচ্ছে।
বন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, এই সম্মান শুধু সাত জন বনকর্মীর ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, বরং গোটা বন বিভাগের কর্মীদের জন্য এক বড় প্রেরণা। ভবিষ্যতেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করতে এই স্বীকৃতি বনকর্মীদের উৎসাহ জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বন দফতর।