সামির হোসেন, নয়া জামানা, দিনহাটা : বছরের পর বছর অবহেলা, পরিকাঠামোর অভাব এবং স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় কার্যত ধুঁকছে দিনহাটা পশু হাসপাতাল। স্বাধীনতার পর পশুপালকদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গড়ে ওঠা এই হাসপাতাল আজ ন্যূনতম পরিষেবাও দিতে পারছে না বলে অভিযোগ। ফলে দিনহাটা শহর ও বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকার পশুপালকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
দিনহাটা শহরের ডাকবাংলো পাড়ায় অবস্থিত এই হাসপাতাল বর্তমানে মাত্র একজন কম্পাউন্ডার ও দু’জন অস্থায়ী কর্মীর ভরসায় চলছে। স্থায়ী পশু চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন বহু মানুষ গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য গৃহপালিত পশু নিয়ে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মী নিয়োগের দাবি উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় এই হাসপাতালেই পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসক ও কর্মী থাকায় দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকেও পশুপালকরা চিকিৎসার জন্য আসতেন। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতাল চত্বর আগাছায় ভরে গিয়েছে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হয় না। সামান্য বৃষ্টিতেই চত্বরে হাঁটুসমান জল জমে যাওয়ায় অনেক সময় পরিষেবা ব্যাহত হয়। সাপের উপদ্রবও বেড়েছে বলে অভিযোগ।
হাসপাতালের কর্মীদের বক্তব্য, সমস্যার বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও বাস্তবে কোনও সমাধান হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পশুপালকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে সিপিআই(এম)-এর কোচবিহার জেলা নেতা শুভ্রালোক দাস বলেন, দিনহাটা পশু হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থায়ী চিকিৎসক, পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ অবিলম্বে করতে হবে। পশুপালকদের স্বার্থে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও অবহেলার জেরে কার্যত অস্তিত্ব সংকটে দিনহাটা পশু হাসপাতাল। পশুপালকদের একটাই দাবি—আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত হাসপাতালের হাল ফিরিয়ে স্বাভাবিক পরিষেবা চালু করুক প্রশাসন।
ঈদের দিন শান্তি-শৃঙ্খলা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে মালদা প্রশাসনের গাইডলাইন