ব্রেকিং
[pj-news-ticker]

আকাশছোঁয়া স্বপ্ন,সাফল্যের পথে আকাশ

মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়,শিক্ষা হল নিজের ভিতরের সম্ভাবনাকে চিনে নেওয়া,অজানাকে জানার সাহস অর্জন করা এবং জীবনের পথে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলার হাতিয়ার। বিশেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক দিশা, নিয়মিত অনুশীলন,অভিজ্ঞ শিক্ষকের সহযোগিতা এবং উপযুক্ত....

আকাশছোঁয়া স্বপ্ন,সাফল্যের পথে আকাশ

মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়,শিক্ষা হল নিজের ভিতরের সম্ভাবনাকে চিনে নেওয়া,অজানাকে জানার....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার মাধ্যম নয়,শিক্ষা হল নিজের ভিতরের সম্ভাবনাকে চিনে নেওয়া,অজানাকে জানার সাহস অর্জন করা এবং জীবনের পথে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলার হাতিয়ার। বিশেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক দিশা, নিয়মিত অনুশীলন,অভিজ্ঞ শিক্ষকের সহযোগিতা এবং উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ একজন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মালদহের গোলাপগঞ্জ হাসপাতাল মোড়ে ২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করেছে আকাশ সায়েন্স অ্যাকাডেমি।অল্প সময়ের মধ্যেই পড়াশোনার পরিবেশ, বিজ্ঞান শিক্ষার পরিকাঠামো এবং ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যকে সঙ্গী করে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বনাথ মন্ডল
প্রধান শিক্ষক

একঝাঁক স্বপ্নবাজ ছাত্রছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই পথচলা।পিযূষ মণ্ডল, দেবাশিস সিংহ, বিউটি মণ্ডল সরকার, বিশ্বনাথ মণ্ডল, জয়প্রকাশ মণ্ডল সহ এক ঝাঁক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা একত্রিত হয়ে ১০১ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাযাত্রার সূচনা।শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল, প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী এলাকার পড়ুয়ারাও যেন আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পায় এবং নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে সাফল্য অর্জন করতে পারে।সেই ভাবনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের ফলাফলে।একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রথম ব্যাচের ১০১ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ১০০ জন প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়।এই ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাযাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে উঠে এসেছে।পাশাপাশি,খুশি মণ্ডল, তিথি মণ্ডল এবং রিয়া মণ্ডলের জয়েন্ট এন্ট্রান্স ও নার্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সাফল্যও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষামহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

দেবাশীষ সিংহ
সহকারি প্রধান শিক্ষক

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কেবল কয়েকজন মেধাবী পড়ুয়ার কৃতিত্বে সীমাবদ্ধ থাকে না।বরং যে শিক্ষাব্যবস্থা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরও এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়, দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ করে দেয় এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, সেই শিক্ষাব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।আকাশ সায়েন্স অ্যাকাডেমির অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হল অঙ্কে দুর্বল কিংবা অঙ্ককে ভয় পায় এমন ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা।অনেক পড়ুয়ার কাছেই অঙ্ক একটি কঠিন বিষয়।সূত্র মনে রাখা, জটিল সমস্যার সমাধান করা কিংবা পরীক্ষার হলে নির্ভুলভাবে উত্তর লেখার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ভয় ও দ্বিধা কাজ করে।সেই ভয়কে দূর করে বিষয়টির প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই এই বিশেষ ক্লাসের অন্যতম উদ্দেশ্য।কারণ,সঠিক পদ্ধতিতে অনুশীলন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে কঠিন বিষয়ও ধীরে ধীরে সহজ হয়ে উঠতে পারে।

অসীম কুমার মন্ডল 

সম্পাদক

আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যার সাহায্যে পাঠ্যবিষয়কে আরও সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও গণিতের মতো বিষয়ে চিত্র, উদাহরণ এবং দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনা পড়ুয়াদের ধারণা স্পষ্ট করতে সহায়তা করতে পারে।মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে বিষয় বুঝে শেখার অভ্যাস তৈরি করা আধুনিক শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিকাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে পরীক্ষাগারের ব্যবস্থাও। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রকৃত ভিত তৈরি হয় তত্ত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে। বইয়ের পাতায় পড়া কোনও বৈজ্ঞানিক সূত্র কিংবা প্রক্রিয়া যখন পরীক্ষাগারে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ মেলে তখন বিষয়টি সম্পর্কে পড়ুয়ার ধারণা আরও পরিষ্কার হয়। বিজ্ঞানমনস্কতা, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা বিকাশের ক্ষেত্রেও পরীক্ষাগারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং কিংবা বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখা ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই ধরনের শিক্ষার পরিবেশ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাব্যবস্থায় আবাসিক পরিকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০০ জন ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতদিন আবাসিক ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হলেও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে অনাবাসিক ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।ফলে বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতে চায় এমন ছাত্রছাত্রীদের কাছেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সহশিক্ষামূলক বা কো-এডুকেশন ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।বিভিন্ন বয়সের পড়ুয়াদের উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার গুরুত্ব রয়েছে।
শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা নয়, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের বিষয়টিও একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কথা মাথায় রেখে পুরো ক্যাম্পাসে সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।দূরদূরান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রয়েছে গাড়ির ব্যবস্থাও। বিশেষ করে যেসব পরিবারের পক্ষে প্রতিদিন সন্তানকে দূরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া কঠিন তাদের কাছে এই পরিবহণ পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিরাপদ পরিবেশ, নিয়মিত পড়াশোনা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এই তিনটি বিষয় পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আকাশ সায়েন্স অ্যাকাডেমিকে ঘিরে এলাকার মানুষের আগ্রহের আরেকটি দিক হল প্রবেশিকা পরীক্ষা।প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রায় ১,৪০০ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়েছিল।এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি প্রক্রিয়াকে ঘিরে আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
গোলাপগঞ্জের মতো এলাকায় আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন থাকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের, কেউ চিকিৎসক হতে চায়, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আবার নার্সিং কিংবা বিজ্ঞানের অন্য কোনও শাখায় নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রস্তুতি,সঠিক পরামর্শ এবং ধারাবাহিক অধ্যবসায়। ছাত্রছাত্রীদের সেই প্রস্তুতির পথে সহযোগী হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চাইছে আকাশ সায়েন্স অ্যাকাডেমি। প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের ফলাফল এবং কয়েকজন পড়ুয়ার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য সেই যাত্রার প্রাথমিক পরিচয় তুলে ধরেছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ মণ্ডল এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক দেবাশিস সিংহের বক্তব্যেও উঠে এসেছে আধুনিক শিক্ষার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার।তাঁদের কথায়, গোলাপগঞ্জ এলাকায় সুনামের সঙ্গে তাঁরা পাঠদান করে চলেছেন। ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক মানের শিক্ষা দেওয়াই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁদের এই বক্তব্যের মধ্যেই রয়েছে আগামী দিনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত শুধু পাঠ্যক্রম শেষ করা নয়,বরং ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের বিকাশ ঘটানো।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি, স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে পাঠদান, বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষাগার, অঙ্কে দুর্বল পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ক্লাস এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির নতুন সুযোগ সব মিলিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে নিজেদের পরিসর আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আকাশ সায়েন্স অ্যাকাডেমি।

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয় সময়ের সঙ্গে, ধারাবাহিক কাজের মধ্য দিয়ে। প্রথম ব্যাচের সাফল্য যেমন নতুন আশার আলো দেখিয়েছে,তেমনই আগামী দিনে আরও বেশি ছাত্রছাত্রীর স্বপ্নপূরণের দায়িত্বও বাড়িয়েছে। গোলাপগঞ্জের শিক্ষা মানচিত্রে নিজেদের জায়গা আরও শক্তিশালী করতে হলে সাফল্যের এই ধারাকে ধরে রাখা,প্রতিটি পড়ুয়ার প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া এবং শিক্ষার মানকে ধারাবাহিকভাবে উন্নত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।কারণ, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন তখনই বাস্তবের পথে এগোয়, যখন শিক্ষার ভিত হয় মজবুত, পরিশ্রম হয় নিয়মিত আর সঠিক দিশা হয়ে ওঠে পথচলার সঙ্গী।সেই প্রত্যাশা নিয়েই গোলাপগঞ্জের বুকে নিজেদের শিক্ষাযাত্রা এগিয়ে নিয়ে চলেছে আকাশ সায়েন্স অ্যাকাডেমি।


শিক্ষার আলো ছড়িয়ে ৫০-এ পা মালদার সেন্ট জেভিয়ার্সের

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর