বাবলু রহমান, জলপাইগুড়ি: সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়াল ময়নাগুড়ির শালতলী চা বাগানে। সোমবার পুলিশের উপস্থিতিতে বিএড কলেজ নির্মাণের কাজ শুরু করতে গেলে হোল্ডার ও স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই জায়গায় সীমানা প্রাচীর তৈরি হলে বহু পুরনো যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অসুস্থ রোগী কিংবা মৃতদেহ নিয়ে যাতায়াতেও সমস্যায় পড়তে হবে। তাঁদের আরও আশঙ্কা, নদীর গতিপথে প্রভাব পড়তে পারে এবং এলাকার কিছু মানুষ কাজের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। ঘটনাস্থলে নিজের জমি ও বাঁশ কাটার বিষয় নিয়েও অভিযোগ তোলেন হোল্ডার নয়ন রায়। তাঁর দাবি, বাগানের জন্য তিনি ২৫ শতক জমি দিয়েছিলেন, কলেজ তৈরির জন্য নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমি হাতবদল হয়ে শেষ পর্যন্ত সেখানে কলেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নয়ন রায় আরও অভিযোগ করেন, তাঁর জমির সীমানার ভিতরের কিছু বাঁশ জোর করে কেটে ফেলা হয়েছে। বাঁশ কাটার জন্য টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি সেই টাকা নিতে চাননি। তাঁর দাবি, ওই বাঁশের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নয়ন রায়ের অভিযোগ, তাঁকে রাস্তা নিয়ে নানা কথা বলা হয়েছে এবং ধমকও দেওয়া হয়েছে। পাশে থাকা আরও এক ব্যক্তি দাবি করেন, শুধু নয়ন রায় নয়, আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদেরও বাড়ি সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, স্থানীয় হোল্ডারদের দাবি, গত শুক্রবারের ঘটনায় ১০ জন হোল্ডারের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা লিখিতভাবে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাঁরা নির্মাণের কাজ করতে দেবেন না।ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল। আগামী বুধবার মালিকপক্ষের সঙ্গে স্থানীয়দের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকেই সমস্যার সমাধানের কোনও রাস্তা বের হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার মানুষ।