ব্রেকিং
[pj-news-ticker]
  • Home /
  • ভ্রমন /
  • লাদাখে দেশের প্রথম হাই-অল্টিটিউড সাফারি, জিপে চেপেই দেখা মিলবে স্নো লেপার্ডের!

লাদাখে দেশের প্রথম হাই-অল্টিটিউড সাফারি, জিপে চেপেই দেখা মিলবে স্নো লেপার্ডের!

নয়া জামানা : পর্যটনের মানচিত্রে নতুন সংযোজন ঘটতে চলেছে লাদাখে। দেশের মধ্যে প্রথমবার হাই-অল্টিটিউড বা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ওয়াইল্ডলাইফ সাফারি চালু করতে চলেছে কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চল। ইতিমধ্যেই প্রকল্পটিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা। বিশেষ জিপ সাফারির....

লাদাখে দেশের প্রথম হাই-অল্টিটিউড সাফারি, জিপে চেপেই দেখা মিলবে স্নো লেপার্ডের!

নয়া জামানা : পর্যটনের মানচিত্রে নতুন সংযোজন ঘটতে চলেছে লাদাখে। দেশের মধ্যে প্রথমবার হাই-অল্টিটিউড বা উচ্চ....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা : পর্যটনের মানচিত্রে নতুন সংযোজন ঘটতে চলেছে লাদাখে। দেশের মধ্যে প্রথমবার হাই-অল্টিটিউড বা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ওয়াইল্ডলাইফ সাফারি চালু করতে চলেছে কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চল। ইতিমধ্যেই প্রকল্পটিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা। বিশেষ জিপ সাফারির মাধ্যমে স্নো লেপার্ড-সহ উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের একাধিক বিরল বন্যপ্রাণীকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।

প্রশাসনের বক্তব্য, এই উদ্যোগ কেবল পর্যটনকেন্দ্রিক নয়। এর মূল উদ্দেশ্য বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত রূপ দেওয়া, পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জীবিকার সংস্থান তৈরি করা।

নতুন ব্যবস্থায় পর্যটকদের আর ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সরাসরি সংরক্ষিত এলাকায় ঢোকার অনুমতি থাকবে না। কাজিরাঙা কিংবা রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যানের ধাঁচেই নির্দিষ্ট সাফারি গাড়িতে চড়েই ঘোরা যাবে। খোলা অংশবিশিষ্ট বিশেষ জিপে প্রশিক্ষিত স্থানীয় চালক ও গাইডদের নিয়ে পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারবেন লাদাখের বন্যপ্রাণের আবাসস্থল। প্রশাসনের আশা, এর ফলে যেমন পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে, তেমনই অবৈধ অফ-রোডিং কমে সংরক্ষিত হবে সংবেদনশীল পার্বত্য পরিবেশও।

প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক এলাকায় সম্ভাব্য সাফারি রুট চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বন দফতরকে। এই তালিকায় রয়েছে হেমিস ন্যাশনাল পার্ক, চাংথাং ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি, কারাকোরাম ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি এবং নুব্রা, জান্সকার, শাম, কার্গিল ও দ্রাস অঞ্চল। স্নো লেপার্ড দেখার পাশাপাশি এই এলাকাগুলি পাখি পর্যবেক্ষকদের কাছেও যথেষ্ট জনপ্রিয় বলে জানা গিয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে স্নো লেপার্ড দেখার সেরা জায়গা লাদাখ। দেশে মোট প্রায় ৭১৮টি স্নো লেপার্ড রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ— ৪৭৭টি— রয়েছে লাদাখেই। শুধু স্নো লেপার্ড নয়, এই অঞ্চলে রয়েছে ৩৮টিরও বেশি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, প্রায় ৩৪০ প্রজাতির পাখি এবং ১,৮০০-রও বেশি প্রজাতির ভাসকুলার উদ্ভিদ। এই বিপুল জীববৈচিত্র্যের কারণেই লাদাখ উচ্চ পার্বত্য বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

শুধু সাফারি চালু করাই নয়, এর পাশাপাশি একগুচ্ছ পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে—৪০টি গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হবে ৩০০টি রঙভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহের বালতি। ৫০টি সরকারি স্কুলে তৈরি হবে ‘SHAN ওয়াইল্ডলাইফ ক্লাব’, যেখানে বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত শিক্ষামূলক সফরের জন্য প্রতিটি স্কুলকে দেওয়া হবে ৩০ হাজার টাকা করে।স্থানীয় তরুণদের জন্য চালু হবে বার্ষিক ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফি ফেলোশিপ। সংরক্ষিত এলাকায় বসানো হবে পরিবেশ রক্ষার বার্তা সংবলিত তথ্যফলক, যাতে আবর্জনা ফেলা, অবৈধ অফ-রোডিং বা বন্যপ্রাণকে বিরক্ত করার মতো ঘটনা রোখা যায়। ৫০ জন মহিলা কারিগরকে স্নো লেপার্ড, ব্ল্যাক-নেকড ক্রেনের মতো বন্যপ্রাণীর ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যার ভিত্তিতে লাদাখ জুড়ে গড়ে উঠবে বন্যপ্রাণ-থিমের স্যুভেনির দোকান।

প্রশাসনের পরিকল্পনা, আগামী শীতে যখন স্নো লেপার্ড দেখার মূল মরসুম শুরু হবে, তার আগেই নতুন এই হাই-অল্টিটিউড সাফারির যাবতীয় পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ করে ফেলা। সফল হলে এই উদ্যোগ শুধু লাদাখের পর্যটন-অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করবে না, দেশের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ মানচিত্রেও একে গুরুত্বপূর্ণ স্থান এনে দেবে বলে মনে করছে প্রশাসন।


 

তৃণমূলের হাত ধরে দেশের প্রথম সমকামী, সাংসদ হওয়ার পথে মেনকার গুরুস্বামী

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর