নয়া জামানা ডেস্ক : ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে সূচিত হল এক নতুন অধ্যায়। দেশের প্রথম ঘোষিত সমকামী সাংসদ হিসাবে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন প্রখ্যাত আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই প্রান্তিক লিঙ্গযৌনতার প্রতিনিধিরা দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় নিজেদের স্বর পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পেলেন। বৃহস্পতিবার ছিল রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এদিন তৃণমূলের চার প্রার্থী— রাজীব কুমার, কোয়েল মল্লিক, মেনকা গুরুস্বামী ও বাবুল সুপ্রিয় এবং বিজেপির রাহুল সিংহ মনোনয়ন দাখিল করেন। আসন সংখ্যা এবং প্রার্থীর সংখ্যা সমান হওয়ায় ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়ছে না। আগামী সোমবার স্ক্রুটিনি ও প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরোলেই পাঁচজনই জয়ী ঘোষিত হবেন। এদিন নজর কেড়েছে মেনকার উপস্থিতি। পরনে গোলাপি শার্ট ও ছাইরঙা ব্লেজ়ার, মুখে আত্মবিশ্বাসের হাসি। মনোনয়নের সময় তাঁর পাশে ছিলেন ছায়াসঙ্গিনী তথা লিভ-ইন পার্টনার অরুন্ধতী কাটজু। ২০১৮ সাল থেকেই তাঁরা একত্রবাস করছেন। ঘটনাচক্রে, সেই বছরই মেনকার আইনি লড়াইয়ের জেরে সমকামী সম্পর্ককে অপরাধমুক্ত ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘নভতেজ সিংহ জোহর বনাম ভারত সরকার’ মামলায় মেনকার যুক্তি ছিল ঐতিহাসিক। এছাড়া আধার মামলা ও ৩৭০ ধারা বিলোপ সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়েও তিনি ছিলেন অগ্রণী সারিতে। ৫১ বছর বয়সি এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবার আইনি লড়াইকে আদালত কক্ষ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন সংসদের অন্দরে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আপ্লুত মেনকা বলেন, ‘এটি আমার কাছে বিরাট সম্মানের বিষয়। একজন আইনজীবী হিসাবে, বিশেষ করে একজন সংবিধান বিষয়ক আইনজীবী হিসাবে সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই উচ্চকক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা সবাই জানেন আমাদের সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা, সমতা ও বৈষম্যহীনতার মূল্যবোধের কথা বলে। সংসদে প্রতি দিন আমার কাজের মাধ্যমে আমি সেই সাংবিধানিক মূল্যবোধকে রক্ষা ও প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করব।’ এদিন বিধানসভায় তৃণমূলের চার মূর্তির মনোনয়ন ছিল বেশ সাবলীল। প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমার, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে নিয়ে পরিষদীয় দল ও নেতৃত্বের উপস্থিতিতে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ডেরেক ও’ব্রায়েন ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার সৌমেন্দ্রনাথ দাসের কাছে নথিপত্র জমা দেন তাঁরা। এর বিপরীতে বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিংহের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বেশ কিছুটা নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। বারবার নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় মেজাজ হারান রাহুল। শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যের তৎপরতায় বেলা আড়াইটে নাগাদ মনোনয়ন জমা দিতে পারেন তিনি। প্রসঙ্গত, ন’বার ভোটে লড়েও হারার পর এবারই প্রথম উচ্চকক্ষে পা রাখতে চলেছেন এই বিজেপি নেতা। আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই পাঁচ নবনির্বাচিত সাংসদের মেয়াদ শুরু হবে, যা চলবে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। জাতীয় দলের তকমা না থাকলেও তৃণমূলের এই ‘প্রগতিশীল’ পদক্ষেপ সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ডায়মন্ড হারবারে বড় ভাঙন! অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে প্রতিকুর রহমান