ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • নির্বাচনের দু’দিন আগে ট্রাইবুনালের, ছাড়পত্র পেলেও ফিরবে ভোটাধিকার,সুপ্রিম রায়ে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী

নির্বাচনের দু’দিন আগে ট্রাইবুনালের, ছাড়পত্র পেলেও ফিরবে ভোটাধিকার,সুপ্রিম রায়ে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী

নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটের বাদ্যি বেজে গেলেও ভোটাধিকারের ভাগ্য ঝুলে ছিল কয়েক লক্ষ মানুষের। অবশেষে সেই রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠার অবসান ঘটাল দেশের শীর্ষ আদালত। নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল থেকে ছাড়পত্র পেলে তবেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের রায় জানাতে পারবেন....

নির্বাচনের দু’দিন আগে ট্রাইবুনালের, ছাড়পত্র পেলেও ফিরবে ভোটাধিকার,সুপ্রিম রায়ে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী

নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটের বাদ্যি বেজে গেলেও ভোটাধিকারের ভাগ্য ঝুলে ছিল কয়েক লক্ষ মানুষের। অবশেষে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটের বাদ্যি বেজে গেলেও ভোটাধিকারের ভাগ্য ঝুলে ছিল কয়েক লক্ষ মানুষের। অবশেষে সেই রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠার অবসান ঘটাল দেশের শীর্ষ আদালত। নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল থেকে ছাড়পত্র পেলে তবেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের রায় জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে এক যুগান্তকারী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর মামলায় আদালতের এই পদক্ষেপে সবথেকে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন রাজ্যের সেই সব মানুষ, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় ছিল। এই জয়ে প্রবল উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারের মাটি থেকে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করলেন, ‘আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়।’

নির্বাচনী আইনের সাধারণ রীতি অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনেই ভোটার তালিকা পুরোপুরি ‘ফ্রিজ’ বা সিল করে দেওয়া হয়। এরপর আর তালিকায় নতুন করে নাম তোলা বা রদবদল সম্ভব হয় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার সেই প্রথা ভাঙল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, প্রথম দফার ভোটের জন্য ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় থাকছে। এই সময়ের মধ্যে ট্রাইবুনাল যে সব আবেদন নিষ্পত্তি করে সবুজ সংকেত দেবে, তাঁরাই বুথে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে ট্রাইবুনাল যাদের নাম বাতিল করবে, তাঁরা কোনোভাবেই ভোট দিতে পারবেন না।

রাজ্যে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন বা বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। এর মধ্যে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম তালিকায় ফিরে এলেও বাদ পড়েছিলেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছিল আইনি লড়াই। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই বাতিল ভোটারদের ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে হবে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নিয়মে আনা হয়েছে নমনীয়তা। আবেদন করতে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ কিংবা সরাসরি কমিশনের ওয়েবসাইট ব্যবহার করেই নাম তোলার আর্জি জানানো যাবে। এ ছাড়াও জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরেও আবেদন করা সম্ভব।

এই রায়ের খবর পেতেই খুশির হাওয়া শাসক শিবিরে। উত্তরবঙ্গ সফররত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহারের হেলিপ্যাডে নেমে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকলকে অভিনন্দন। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে উঠেই আমি সুখবরটা পেলাম। প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, সকলে ধৈর্য ধরুন। আমি খুব খুশি। বিচারব্যবস্থার জন্য গর্বিত। আমিই মামলা করেছিলাম। তাই আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি যে তাঁর দলের কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে, তা বলাই বাহুল্য। ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত ‘আপিল ট্রাইবুনাল’ বর্তমানে নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ চালাচ্ছে দ্রুতগতিতে।

তবে শুধু আনন্দ প্রকাশ নয়, রায় আসার পরপরই রণকৌশল সাজিয়ে ফেলেছেন তৃণমূল নেত্রী। দলের কর্মীদের জন্য জারি করেছেন একগুচ্ছ নির্দেশিকা। ভোট প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ট্রাইবুনালের ছাড়পত্র মেলার পর অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। আর সেই তালিকা হাতে পাওয়ামাত্রই যেন সময় নষ্ট না হয়। মমতার কথায়, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো, যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, প্রথম পর্যায়ের ভোটের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ তারিখ। ভোটের দু’দিন আগেই। ওটা পেলে বুথের সমস্ত কর্মী এবং নেতাদের বলব, সে দিন রাতের মধ্যেই ভোটার স্লিপ তৈরি করে বাড়ি বাড়ি যেন পৌঁছে দেয়— যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা যাতে ভোট দিতে পারেন।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন যে ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও ২৭ তারিখ অর্থাৎ ঠিক দু’দিন আগে তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটারদের তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া নামগুলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের পর অনেকেই ট্রাইবুনালে দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ বাতিল ভোটারদের জন্য এক বড় জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আদালতের এই নির্দেশে যে ভোটারদের বড় অংশ ফের ভোটমুখী হবেন, সেই আশা করছে রাজনৈতিক মহল।

একদিকে আইনি লড়াই আর অন্যদিকে ভোটের ময়দান—দুটি জায়গাতেই এখন তুঙ্গে ব্যস্ততা। সুপ্রিম কোর্ট এবার তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করল। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তালিকা খোলার এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল। এখন ট্রাইবুনালের রায়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন লক্ষ লক্ষ বাতিল ভোটার। তাঁদের নাম তালিকায় উঠলে যেমন গণতন্ত্রের জয় হবে, তেমনই রাজনৈতিক সমীকরণেও দেখা দিতে পারে বড় চমক। আপাতত ২১ এবং ২৭ এপ্রিলের সেই ‘অতিরিক্ত তালিকার’ দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও আমজনতা।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর