নয়া জামানা, কলকাতা : মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের হেনস্থা ও এসআইআর-এর কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল এনআইএ। বৃহস্পতিবার কলকাতার নগরদায়রা আদালতে ধৃত ৪৯ জনকে পেশ করা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এদের মধ্যে ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। বাকি ৩৭ জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আর্জি জানানো হয়েছে। এদিন আদালতে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত মোফাক্কেরুল ইসলামের জামিনের সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী। রাজ্য পুলিশের নজরে মোফাক্কেরুল এই ঘটনার ‘মূলচক্রী’। তবে তাঁর আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হচ্ছে। আদালতে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছ তদন্তের জন্য এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আমি যত দূর জানি, সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করে মোফাক্কেরুল জমায়েত সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনার সঙ্গে ওঁর যুক্ত থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই। উনি সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়। ওঁকে চিনতে পেরে ওখানকার লোকজন জমায়েত সরানোর অনুরোধ করেছিলেন। পুলিশও ওঁর সহযোগিতা চেয়েছিল। আশা করি বিচারক জামিনের আবেদন মঞ্জুর করবেন।’ নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। পাল্টা যুক্তিতে এনআইএ-র আইনজীবী জানান, অভিযুক্তেরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তাই এই পর্যায়ে সব তথ্য সর্বসমক্ষে তাঁরা আনতে চাইছেন না। এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মোথাবাড়ি। অভিযোগ, একদল লোক বিচারকদের রাতভর আটকে রেখে হেনস্থা করে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন এই মামলার ভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। সিআইডি-র হাতে প্রথম গ্রেফতার হওয়া মোফাক্কেরুল-সহ মোট ৫২ জন বর্তমানে শ্রীঘরে। তদন্তের স্বার্থে ১২ জনকে জেরা করতে মরিয়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এখন দেখার, আদালত জামিন নাকি হেফাজত— কোন পথে হাঁটে। ছবি সংগৃহিত।