ব্রেকিং
  • Home /
  • দেশ /
  • মহিলা সংরক্ষণ : বিরোধীদের ‘গণতন্ত্র’, শঙ্কা, পাল্টা ‘ক্ষমা নেই’ তোপ মোদীর

মহিলা সংরক্ষণ : বিরোধীদের ‘গণতন্ত্র’, শঙ্কা, পাল্টা ‘ক্ষমা নেই’ তোপ মোদীর

নয়া জামানা ডেস্ক : মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার তোড়জোড় শুরু হতেই সংঘাত চরমে কেন্দ্র ও বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল লোকসভায় ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-সহ তিনটি বিল পেশ করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী....

মহিলা সংরক্ষণ : বিরোধীদের ‘গণতন্ত্র’, শঙ্কা, পাল্টা ‘ক্ষমা নেই’ তোপ মোদীর

নয়া জামানা ডেস্ক : মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার তোড়জোড় শুরু হতেই....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার তোড়জোড় শুরু হতেই সংঘাত চরমে কেন্দ্র ও বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল লোকসভায় ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-সহ তিনটি বিল পেশ করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের দাবি, এই খসড়া আইনে সিলমোহর পড়লে দেশে গণতন্ত্রের ইতি ঘটবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাল্টা হুঁশিয়ারি, যারা এই বিলের বিরোধিতা করছে, দেশের মেয়েরা তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার উত্তাপ ছড়ায় আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, জনগণনার রিপোর্ট আসার আগেই তড়িঘড়ি আসন বাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করার নীল নকশা তৈরি করেছে বিজেপি। যদিও সেই চক্রান্তের অভিযোগ উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বস্ত করেছেন যে, দাক্ষিণাত্যের কোনো রাজ্য বঞ্চিত হবে না। কিন্তু ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনড় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।

এদিন লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘এই বিল এই খসড়া নিয়ে পাশ হলে গণতন্ত্রের ইতি ঘটবে দেশে।’ তাঁর অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে আসলে ওবিসি বা অনগ্রসর শ্রেণির অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে মোদী সরকার। প্রিয়ঙ্কার মতে, বর্তমান খসড়ার সঙ্গে নারী কল্যাণের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এর পিছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

এদিকে মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাসকে জুড়ে দেওয়া আসলে রাজ্য ভাগ এবং ভোটারদের নাম কাটার এক গভীর চক্রান্ত বলেই মনে করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তৃণমূল নেত্রীর দাবি, এটি ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার নতুন কৌশল।

বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সংবিধানের ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৫২ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার। সাধারণত জনগণনা শেষ হওয়ার পর আসন পুনর্বিন্যাস করার নিয়ম থাকলেও কেন্দ্র তা এখনই করতে চাইছে। এই পদক্ষেপকেই ‘গণতন্ত্র বিরোধী’ বলছে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সংখ্যালঘু মহিলাদের জন্য পৃথক সংরক্ষণের দাবি তুললে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টাহুশিঁয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভারতীয় সংবিধান কোনও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কোনও ধরনের সংরক্ষণ অনু‌মোদন করে না।’

বিল পেশ করা নিয়ে অধিবেশনে ভোটাভুটি পর্যন্ত হয়। বিলের পক্ষে ২৫১টি এবং বিপক্ষে ১৮৫টি ভোট পড়ে। অধিবেশন শুরুর আগে মোদী সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, নারী ক্ষমতায়নের পথে এটি এক ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’। তবে বিরোধীদের প্রতি কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁরা মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করছেন, মেয়েরা তাঁদের ক্ষমা করবে না।’ বিরোধিতার জন্য তাঁদের ‘দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য চোকাতে’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিতর্কের মাঝেই উঠে আসে কৃতিত্বের লড়াই। মোদী জানান, তিনি এই বিল পাশের কোনো ব্যক্তিগত কৃতিত্ব চান না। তাঁর খোঁচা, ‘আমি মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের কৃতিত্ব চাই না।’ কোনো নেতা চাইলে পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন দিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিতর্কের এক পর্যায়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হলে মোদী স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ওঁকে বলতে দিন। ওখানে ওঁকে কেউ কিছু বলতে দেন না।’

২০২৩ সালে পাশ হওয়া বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হবে। কিন্তু এখন আসন পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণকে একই সুতোয় গেঁথে দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে জনবিন্যাসগত রাজনীতি নিয়ে। বিরোধী শিবিরের আশঙ্কা, আসন বাড়লে উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের দাপট বাড়বে এবং কোণঠাসা হবে দক্ষিণ ভারত। যদিও শাহের দাবি, দক্ষিণের প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং বাড়বে। শুক্রবার বিকেলেই এই বিতর্কিত তিনটি বিল নিয়ে সংসদের নিম্নকক্ষে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আসনবৃদ্ধি ও নারী শক্তির লড়াইয়ে এখন সরগরম রাজধানীর অলিন্দ।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর