নয়া জামানা : জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অনুষ্ঠিত হল বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড ন্যুড বাইক রাইড’। উজ্জ্বল রোদ ও প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে শতাধিক নারী-পুরুষ সম্পূর্ণ বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় সাইকেল চালিয়ে অংশ নেন এই কর্মসূচিতে। আয়োজকদের বার্তা ছিল স্পষ্ট— নগ্নতার সংস্কৃতিকে গ্রহণযোগ্যতা দিক আধুনিক বিশ্ব, আর ভেদাভেদ-বৈষম্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে নগ্নতায় সকলে সমান হয়ে উঠুক।
পূর্ব বার্লিনের মাউয়ারপার্কে বার্লিন প্রাচীরের কাছ থেকে শুরু হয় এই সাইকেল র্যালি। সেখান থেকে রাইখস্টাগ ভবন হয়ে শোনফেল্ড পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন অংশগ্রহণকারীরা। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছিল, এই কর্মসূচিতে যে কেউ অংশ নিতে পারেন। নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা অনুযায়ী পোশাক পরার স্বাধীনতা ছিল সকলের, চাইলে সম্পূর্ণ পোশাকহীন অবস্থাতেও যোগ দেওয়া যেত।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য মানুষের শারীরিক বৈচিত্র নিয়ে সচেতনতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা— অর্থাৎ কোনও নির্দিষ্ট শরীরী গড়ন বা সৌন্দর্যের মানদণ্ড চাপিয়ে না দিয়ে সহনশীলতা, আত্ম-স্বীকৃতি, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং বৈচিত্রের প্রতি সমর্থন জোরদার করা। এক আয়োজক জানান, প্রকৃতিবাদের মূল কথা হল কোনও আড়ম্বর বা ভনিতা ছাড়াই মানুষে-মানুষে মিলন। সামাজিক মর্যাদা বা অবস্থানের নিরিখে একে অপরকে বিচার না করে নগ্নতা মানুষকে একে অপরের সঙ্গে সমান চোখে দেখতে শেখায়— আর এটাই এই উদ্যোগের মূল দর্শন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ধরনের নগ্নতা-উদযাপন শুধু বার্লিনেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই পালিত হয় এমন কর্মসূচি। আয়োজকদের মতে, নগ্নতা মানেই অশ্লীলতা— এই ধারণা সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যতক্ষণ না তা অশোভন বা ‘ভালগার’ পর্যায়ে পৌঁছয়, ততক্ষণ নগ্নতাও হয়ে উঠতে পারে নান্দনিকতার এক ভিন্ন প্রকাশ। প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়া এবং পোশাকের বাঁধন থেকে মুক্তির অনুভূতিকেই নগ্নতাবাদের মূল দর্শন হিসেবে দেখা হয়, যার সঙ্গে যৌনতার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই বলেই মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।