নয়া জামানা : আগামীকাল, বুধবার আকাশপ্রেমীদের জন্য বছরের অন্যতম ব্যস্ত দিন হতে চলেছে। ভোরের আকাশে একই সঙ্গে ছয়টি গ্রহকে একটি বিস্তৃত সারিবদ্ধ অবস্থানে দেখা যাবে। বৃহস্পতি, বুধ, মঙ্গল, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন—এই ছয়টি গ্রহ সূর্যের আপাত গতিপথ বা ক্রান্তিবৃত্তের কাছাকাছি অবস্থান করবে। পৃথিবী থেকে তাকালে পূর্ব দিগন্ত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশের দিকে বিস্তৃত একটি বাঁকা রেখার মতো মনে হবে এই বিন্যাস। তবে একে মহাকাশে ছয়টি গ্রহের প্রকৃত সরলরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা ভাবলে ভুল হবে। এটি মূলত পৃথিবী থেকে দেখা তাদের আপাত অবস্থানের একটি বিশেষ বিন্যাস মাত্র।

ভারত থেকেও এই গ্রহের সারিবদ্ধতা দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষত কলকাতার মতো শহর থেকেও আগামীকাল ভোরে এই দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঠিক সময় বেছে নেওয়া। সূর্য ওঠার আগের অন্ধকার আকাশে গ্রহগুলিকে খুঁজতে হবে, আনুমানিক ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে পর্যবেক্ষণের সুযোগ সবচেয়ে ভালো থাকবে। কলকাতার ক্ষেত্রে পূর্ব দিগন্ত একেবারে পরিষ্কার থাকা জরুরি, কারণ উঁচু বাড়ি, গাছপালা এবং শহরের আলো দিগন্তের কাছাকাছি থাকা গ্রহগুলিকে সহজেই আড়াল করে দিতে পারে। এর সঙ্গে বর্ষাকালের মেঘও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে ছয়টি গ্রহের প্রত্যেকটির দৃশ্যমানতা একরকম হবে না। মঙ্গল এবং শনি তুলনামূলকভাবে সহজে খালি চোখে চেনা যাবে। বৃহস্পতি যদিও অত্যন্ত উজ্জ্বল, কিন্তু দিগন্তের কাছাকাছি থাকার কারণে কলকাতার মতো আলোকদূষিত শহর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। একই সমস্যা দেখা দেবে বুধের ক্ষেত্রেও—ভোরের আলো বাড়ার আগে তাকে খুব নিচু পূর্ব আকাশে খুঁজতে হবে, ফলে দিগন্ত যত পরিষ্কার হবে দেখার সম্ভাবনা তত বাড়বে। অন্যদিকে ইউরেনাস এবং নেপচুনের ক্ষেত্রে খালি চোখে দেখার আশা না করাই ভালো, এই দুই গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য দূরবীন বা টেলিস্কোপ আবশ্যক।
এই বিরল আকাশ-ঘটনার সঙ্গে একই দিনে জুড়ে যাচ্ছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনা। ১২ আগস্টই পড়ছে অমাবস্যা, আর একই দিনে ঘটবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণও। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের কলকাতা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না, কারণ গ্রহণের দৃশ্যমানতার অঞ্চল দেশের বাইরে। ফলে কলকাতা বা দেশের অন্য কোনও শহর থেকে সূর্যের সম্পূর্ণ গ্রহণ দেখার সুযোগ থাকছে না।
রাত নামার পর আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করবে আরও একটি আকর্ষণীয় ঘটনা। বার্ষিক পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সক্রিয়তার সময়ও পড়ছে ১২ আগস্টের রাত থেকে ১৩ আগস্টের ভোরের মধ্যে। এ বছর অমাবস্যার কারণে চাঁদের উজ্জ্বল আলো আকাশে থাকবে না, ফলে শহরের আলো থেকে দূরে গেলে ক্ষীণ উল্কাগুলিও দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। ভারতের ক্ষেত্রে অবশ্য বর্ষার মেঘ এবং স্থানীয় আবহাওয়া এই পর্যবেক্ষণকে যথেষ্ট প্রভাবিত করতে পারে।
বুধবার অর্থাৎ ১২ আগস্টের এই ঘটনাগুলি একই মুহূর্তে ঘটবে না। ভোরে থাকবে ছয় গ্রহের সারিবদ্ধতা, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর কিছু অঞ্চল থেকে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, আর রাতের আকাশে থাকবে পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সক্রিয়তা। ভারতের আকাশপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সুযোগ হল ভোরের গ্রহগুলির অবস্থান এবং রাতের উল্কাবৃষ্টি উপভোগ করা। কলকাতা থেকে চেষ্টা করলে ভোরের আগে এমন একটি জায়গা বেছে নেওয়াই ভালো, যেখানে পূর্ব দিগন্ত খোলা এবং কৃত্রিম আলোর পরিমাণ যতটা সম্ভব কম।
‘সরকারে থেকেও যেন বিরোধী হয়ে গেছি’ বড়ঞায় ভান্ডারের কাহিনী শোনালেন মমতা