ব্রেকিং
[pj-news-ticker]

টুলু পলাতক! এবার গ্রেপ্তার পাথর মাফিয়ার ম্যানেজার

নয়া জামানা, বীরভূম : পাথর মাফিয়া মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম সীতেশ প্রামাণিক। পাচামি ও দেউচা অঞ্চলে পাথর এবং ক্রাশার সরবরাহ অফিসের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মুর্শিদাবাদ জেলার সালারের বাসিন্দা সীতেশকে সোমবার গ্রেফতার করে বীরভূমের....

টুলু পলাতক! এবার গ্রেপ্তার পাথর মাফিয়ার ম্যানেজার

নয়া জামানা, বীরভূম : পাথর মাফিয়া মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা, বীরভূম : পাথর মাফিয়া মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম সীতেশ প্রামাণিক। পাচামি ও দেউচা অঞ্চলে পাথর এবং ক্রাশার সরবরাহ অফিসের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মুর্শিদাবাদ জেলার সালারের বাসিন্দা সীতেশকে সোমবার গ্রেফতার করে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে মাফিয়া টুলুর আত্মীয় মীনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই উঠে আসে ম্যানেজার সীতেশের নাম। গত ২৯ জুন মহম্মদবাজারে মীনারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল বীরভূম পুলিশের বিশেষ দল। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছিল সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও সোনার বাট। ওই ঘটনাতেই গ্রেফতার হন মীনার। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই পুলিশ পৌঁছয় সীতেশ প্রামাণিকের কাছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পাচামি পাথর খাদানের যাবতীয় হিসাব থাকত সীতেশের কাছেই। পাচামির ক্রাশারগুলির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে থাকতেন মহম্মদবাজারে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে অবশ্য সীতেশ দাবি করেন, তিনি টুলুর পাচামির ক্রাশারে কাজ করতেন মাত্র, কেন গ্রেফতার করা হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। এদিন ধৃতকে সিউড়ি জেলা আদালতে তোলা হয়।

পাথর মাফিয়া টুলুর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে মহম্মদবাজার থানার দুই সাব ইন্সপেক্টর সানাউর হোসেন ও আব্দুল আলিমকে বীরভূম পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, বীরভূমের অন্ধকার জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তি টুলুর বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপে দিনের পর দিন সহযোগিতা করেছেন এই দুই অফিসার।

মীনারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে টুলুর আরও সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। বিঘের পর বিঘে জমি ছাড়াও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থায়ীভাবে ৩৪ কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য মিলেছে। ইতিমধ্যেই ওই অ্যাকাউন্ট সিজ করেছে পুলিশ।

তদন্তে উঠে এসেছে বিপুল অঙ্কের তোলাবাজির তথ্যও। প্রতিদিন বীরভূমের পাঁচটি টোল আদায় গেট থেকে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা আদায় হয়, কখনও তা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্তও পৌঁছয়। অথচ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত মাত্র ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ, কখনও সর্বোচ্চ এক কোটি বা এক কোটি দশ লক্ষ টাকা। বাকি বিপুল অঙ্কের টাকা টুলুর মাধ্যমে পৌঁছে যেত তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক থেকে শুরু করে পুলিশ, প্রশাসন এমনকী সাংবাদিকদের একাংশের কাছেও— যাতে নকল ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট) কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশ্যে না আসে। এই পাঁচটি বেআইনি ডিসিআর গেটের ছবি তোলারও সুযোগ পেতেন না সাংবাদিকরা, কারণ কড়া নিরাপত্তায় গেটগুলি নিয়ন্ত্রণ করত টুলুর অনুগত বাহিনী।

পুলিশি হিসাব অনুযায়ী, মাসে অন্তত ৭০ থেকে ৯০ কোটি টাকা আয় হত টুলুর। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত অব্যাহত ছিল এই তোলাবাজির কারবার। শুধু পাথর থেকেই নয়, ময়ূরাক্ষী নদীতে একাধিক, অধিকাংশই বেআইনি, বালির ঘাটও চালাতেন তিনি। টুলুর নিজের নামে রয়েছে পাঁচশোর বেশি ডাম্পার, আত্মীয়দের নামে থাকা ডাম্পার মিলিয়ে সংখ্যাটা সাড়ে আটশো। বীরভূম জেলায় খাদান ও ক্রাশার মালিকদের কাছে অঘোষিত নির্দেশ ছিল— টুলুর ডাম্পারই ব্যবহার করতে হবে, না পাওয়া গেলে তবেই অন্য কারও ডাম্পার নেওয়া যাবে।

মহম্মদবাজারে অফিস ছাড়াও সিউড়ির নেতাজি পল্লীতে টুলুর রয়েছে প্রাসাদোপম বাড়ি ও অফিস। নিজের ডাম্পার বহরের জন্য মহম্মদবাজার ও গণপুরে নিজস্ব দু’টি পেট্রল পাম্পও কিনেছিলেন তিনি। দেউচা-পাচামি, মহম্মদবাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় নিজের ও আত্মীয়দের নামে রয়েছে বিঘের পর বিঘে জমি এবং একাধিক দামি বিদেশি গাড়ি। মোট সম্পত্তির পরিমাণ হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে অনুমান পুলিশের।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর