ব্রেকিং
[pj-news-ticker]
  • Home /
  • জেলা /
  • বীরভূমের পাঁচ রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান

বীরভূমের পাঁচ রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান

তারিক আনোয়ার,নয়া জামানা,সিউড়ি: রথযাত্রাকে সামনে রেখে ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জেলার প্রাচীন উৎসবগুলিকে আরও সুসংগঠিতভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বীরভূম জেলার পাঁচটি রথযাত্রা কমিটির হাতে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান তুলে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।সোমবার সিউড়ি জেলাশাসকের কার্যালয়ে....

বীরভূমের পাঁচ রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান

তারিক আনোয়ার,নয়া জামানা,সিউড়ি: রথযাত্রাকে সামনে রেখে ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জেলার প্রাচীন....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


তারিক আনোয়ার,নয়া জামানা,সিউড়ি: রথযাত্রাকে সামনে রেখে ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জেলার প্রাচীন উৎসবগুলিকে আরও সুসংগঠিতভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বীরভূম জেলার পাঁচটি রথযাত্রা কমিটির হাতে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান তুলে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।সোমবার সিউড়ি জেলাশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত থেকে এই অনুদান কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ-সহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। পরে আইন-শৃঙ্খলা ও উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার।এদিন অনুদান পেয়েছে তারাপীঠের তারা মাতা সেবাইত সংঘ, সিউড়ির রাধাবল্লভ মন্দির, বীরচন্দ্রপুরের বাকারাই মন্দির, বোলপুরের শ্রীমান মহাপ্রভু মন্দির এবং ডেউচার রামজি আশ্রম। প্রত্যেকটি কমিটিকে রথযাত্রার আয়োজন, ভক্তদের নিরাপত্তা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, আলোকসজ্জা, পানীয় জল, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানুষের আবেগের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টানতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নজির। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সমাজের নানা স্তরের মানুষ একত্রিত হন, গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ। একই সঙ্গে রথযাত্রার মেলা স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হস্তশিল্পী, মিষ্টি ব্যবসায়ী, খেলনা বিক্রেতা ও অস্থায়ী দোকানদারদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে ওঠে। ফলে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি রথযাত্রা স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করে।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পীঠস্থান বীরভূমে রথযাত্রার ইতিহাস বহু প্রাচীন। তারাপীঠের আধ্যাত্মিক আবহ, বোলপুর-শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, সিউড়ি, বীরচন্দ্রপুর ও ডেউচার মতো অঞ্চলে আজও রথযাত্রাকে ঘিরে মানুষের উৎসাহ ও ভক্তি চোখে পড়ার মতো। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা জেলা। ফলে এই উৎসব শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বীরভূমের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত উৎসবগুলিকে সরকারি সহায়তার আওতায় এনে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ উৎসব পরিচালনা এবং পর্যটনের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করার দিকেই সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, সরকারি এই অনুদানের ফলে রথযাত্রার আয়োজন আরও সুশৃঙ্খল হবে, ভক্তদের সুবিধা বাড়বে এবং বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী উৎসব নতুন মাত্রা লাভ করবে।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর