চিন্ময় চক্রবর্তী, নয়া জামানা, হিঙ্গলগঞ্জ: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার টাকা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক অফিসে বিডিওর সঙ্গে দেখা করলেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতৃত্ব। প্রকল্পের সুবিধা থেকে বহু প্রকৃত উপভোক্তা এখনও বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানায় সংগঠনটি।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার বিভিন্ন অঞ্চল ও গ্রামে সাংগঠনিক বৈঠক করতে গিয়ে বহু মহিলা তাঁদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছায়নি। বিশেষ করে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা বহু পরিবারের মহিলারা এই সমস্যায় ভুগছেন বলে সংগঠনের দাবি।
সংগঠনের অভিযোগ, কেন টাকা বন্ধ রয়েছে, কবে টাকা দেওয়া হবে অথবা কোনও কারণে আবেদন বাতিল হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা কোনও স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছেন না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, বিভ্রান্তি এবং ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের আরও দাবি, অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা প্রকল্পের সুবিধা পেলেও প্রকৃত প্রাপকদের একাংশ এখনও আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে বহু মহিলা হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে গিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বের দাবি, সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও তাঁরা উপস্থিত থেকে আবেদনকারীদের শান্ত করেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পরে বিডিওর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন এবং নথি জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আবেদনকারীদের রিসিভ কপিও দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশের ভূমিকার কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এর ফলে বহু হিন্দু মা-বোন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জমা পড়া নথিগুলি খতিয়ে দেখে যোগ্য আবেদনকারীদের সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা প্রশাসনিক যাচাই ও সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
মাধ্যমিকে ৬৯৮ পেয়ে রাজ্যসেরা রায়গঞ্জের অভিরূপ, সাফল্যের নেপথ্যে মায়ের একক লড়াই