নয়া জামানা : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ব্যবহার নিয়ে সবার আগে আমরাই ধারাবাহিক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ।কারা বিমান ভাড়া দিয়েছিল, তাদের কত টাকা দেওয়া হয়েছিল— এই সমস্ত তথ্য সবার প্রথম সামনে তুলে ধরে ছিলাম আমরাই।, যা তৃণমূলের অন্দরে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। এবার সেই খবরের সূত্র ধরেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের জাল খুঁজে পেয়েছে, তা নিয়ে নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
ইডির অভিযোগ, তৃণমূলের টাকা দিয়েই কেয়ারওয়েল এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থা একটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার কেনে। পরে সেই বিমান-কপ্টারই চড়া ভাড়ায় ব্যবহারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া হয়। কেয়ারওয়েল এভিয়েশনের সঙ্গে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের এই চক্রাকার লেনদেন এবং কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জের যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রীতিমতো হতচকিত হয়ে পড়েন কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট বলেন, আমি তো সব শুনে তাজ্জব বনে যাচ্ছি। এসব কথা আমরা কখনও জানতেও পারিনি। কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ বা শেল কোম্পানি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এসব নিয়ে তাঁর আগে কোনও ধারণাই ছিল না। তাঁর কথায়, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে কথা বলছে তা চমকে দেওয়ার মতো। তা যদি সত্যিই হয়, আমরা চাইব তদন্ত এজেন্সি এর গোড়া পর্যন্ত গিয়ে সমস্ত বিষয়টা প্রকাশ করুক।
বেআইনি লেনদেন প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ, ২০০২)-এর ১৭(১-এ) ধারা অনুযায়ী বুধবারই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ করে দিয়েছিল ইডি। মধ্য কলকাতার লালবাজারের ঠিক পিছনে রাধাবাজার স্ট্রিটে অবস্থিত কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজের রেজিস্টার্ড অফিসসহ মোট ৫টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে এই পদক্ষেপ নেন ইডির কলকাতা জোনাল অফিসের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, এই সংস্থার দুই ডিরেক্টর হলেন রমেশ কুমার জাজু ও পবন কুমার জাজু। ইডির অভিযোগ, তৃণমূলের টাকা ঘুরপথে কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জে পাঠানো হত। আরও অভিযোগ, অবৈধ অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে ২০২৩ সালে সেখানকার একটি শেল কোম্পানির থেকে ১৭ লক্ষ মার্কিন ডলার অসুরক্ষিত ঋণ দেখানো হয় কেয়ারওয়েলের তরফে।
ইডির দেওয়া আর্থিক লেনদেনের খতিয়ান অনুযায়ী, মূল গরমিলটি লুকিয়ে রয়েছে একটি সার্কুলার বা চক্রাকার ট্রেডিংয়ের মধ্যে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা যায় কেয়ারওয়েল এভিয়েশনের খাতায়। এরপর কেয়ারওয়েল সেই টাকার একটি বড় অংশ, প্রায় ৮২.৯৬ কোটি টাকা, তাদেরই এক সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ঘুরিয়ে মোট ১১২ কোটি টাকা খরচ করে একটি এমব্রেয়ার লিগ্যাসি ৬০০ বিমান ও একটি অগাস্টা১০৯ গ্র্যান্ড নিউ হেলিকপ্টার কেনে। ইডির দাবি, তৃণমূলের টাকাতেই কেনা হয় এই বিমান ও কপ্টার, অথচ কেনার পর সেগুলিই আবার চড়া ভাড়ায় ব্যবহারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বিমান ভাড়ার খরচ দেখিয়ে ঘুরপথে ফের কোটি কোটি টাকা দলের অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল এভিয়েশনের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ ইডির।
তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইডি ফ্রিজ করে দিলেও বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট সেই পদক্ষেপ রদ করে দেয়। তবে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তথা স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত তালুকদারকে জানিয়ে তবেই ওই অ্যাকাউন্ট থেকে দলের প্রয়োজনীয় খরচ করা যাবে। অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ প্রত্যাহার হলেও, ইচ্ছেমতো চেক কেটে টাকা তোলার রাস্তা কার্যত বন্ধই রাখল উচ্চ আদালত।
ফের বিমান দুর্ঘটনা, রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে ভেঙ্গে পড়ল মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমান