সীতারাম মুখার্জি, নয়া জামানা, বর্ধমান: দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আসানসোল পুরনিগম ভেঙে দিল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। গত ৭ জুলাই জারি করা এক সরকারি নির্দেশে, পশ্চিমবঙ্গ পৌর কর্পোরেশন আইন, ২০০৬-এর ৬০(১) ধারার অধীনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে এবং প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে আইএএস অফিসার অদিতি চৌধুরীকে পুরনিগমের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন নির্বাচিত পুরবোর্ড দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত এই প্রশাসনিক ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকবে।
উল্লেখ্য, গত দুমাস ধরে বোর্ড মিটিং না হওয়া, সম্পত্তি কর মকুবের সিদ্ধান্ত ও নাগরিক পরিষেবায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসানসোল পুরনিগমকে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছিল রাজ্য। বিদায়ী মেয়র বিধান উপাধ্যায় ই-মেইলের মাধ্যমে ছয় পাতার জবাব পাঠালেও, তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। ফলে এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে পুরনিগমের অন্দরেও সংকট গভীর হয়েছে। ১০৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ইতিপূর্বেই ৬ জন কাউন্সিলর এবং ২ জন বোরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সাম্মানিক ভাতা এবং গাড়ির পেট্রোল বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। যদিও বিদায়ী মেয়রের দাবি ছিল, পুর পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
রাজ্য সরকারের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং নতুন প্রশাসক অদিতি চৌধুরীর নেতৃত্বে আসানসোলের নাগরিক পরিষেবা কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে, এখন সেটাই দেখার। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদায়ী মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
‘১৬ মে উচ্ছেদ অভিযান’- হটন রোডে দখলমুক্ত অভিযানে আসানসোল পৌরনিগম