নয়া জামানা, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের অলিতে-গলিতে গজিয়ে উঠেছে নিয়মবহির্ভূত পাঁচ-ছ’তলা বা তার চেয়েও সুউচ্চ আবাসন। অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এসব বহুতল তৈরি হয়েছে। খাতায়-কলমে তিন বা চারতলার অনুমতি নিয়ে, নেতাদের পকেট ভরে তৈরি করা হয়েছে অতিরিক্ত উচ্চতার বিল্ডিং। এমনকি দমকল ঢোকার রাস্তা নেই, এমন সংকীর্ণ গলিতেও বহুতল নির্মাণ থমকে থাকেনি। আর নেতাদের খুশি করার এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত চেপেছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর, যার জেরে বর্ধমানে ফ্ল্যাটের দাম স্কোয়ার ফুট প্রতি সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে রেকর্ড সংখ্যক ফ্ল্যাট তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের দাবি, নিয়মকানুনের কড়াকড়ি থেকে বাঁচতে পুরনো তারিখ বা ‘ব্যাকডেটে’ এসব প্ল্যান পাস করানো হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রোমোটারদের সেই দাপট কিছুটা কমলেও, চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে এখন তাঁরা আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, বর্ধমানে বালি ও ইটের দাম কলকাতার চেয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল নেতাদের কাটমানি ও দুর্নীতির কারণেই ফ্ল্যাটের দাম আকাশছোঁয়া। কোনো কোনো কাউন্সিলর বিনা বিনিয়োগে প্রজেক্টের অংশীদার হতেন বা নিখরচায় ফ্ল্যাট নিতেন বলেও অভিযোগ। জমি কেনা থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের ‘দক্ষিণা’ দিতে হতো প্রোমোটারদের। আর এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি অধিকাংশ কাউন্সিলর। নেতাদের এই প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও সিন্ডিকেট রাজের খেসারত আজ দিতে হচ্ছে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষকে।