রবিন মুরমু, নয়া জামানা, দক্ষিণ দিনাজপুর: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একেবারে ভারত এবং বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হিলি যমুনা ব্রিজের উপরে সামান্য বৃষ্টিতেই দাঁড়িয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল।জল নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী থেকে শুরু করে টোটো- অটোচালক ও প্রাতঃ ভ্রমণকারীরা। জল নিষ্কাশনে ড্রেনের ব্যবস্থা থাকলেও নোংরা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে জলের পাইপ লাইনগুলি। স্বাভাবিক কারণেই জল নিষ্কাশনের এই পাইপ লাইন গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই দাঁড়িয়ে পড়ছে বর্ষার জল। একাধিকবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এমনকি ব্লক প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হলেও কোন কাজ হয়নি বলে অভিযোগ সীমান্ত শহরবাসীর। হিলির যমুনা ব্রিজ থেকে ঢিল ছোরা দূরত্বে অবস্থিত গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় এবং ব্লক প্রশাসনের অফিস। প্রতিনিয়ত এই যমুনা ব্রিজের উপর দিয়ে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসনের আমলা কর্তা ব্যক্তিরা যাতায়াত করলেও সাধারণ মানুষের ভূমিকায় যেন নীরব দর্শক। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ১৩ ই নভেম্বর ২০০০ সালে ব্রিজটির শুভ উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী। উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন আরএসপি দলের মন্ত্রী বিশ্বনাথ চৌধুরী, রাষ্ট্রমন্ত্রী মনোহর তীরকি, জেলা পরিষদের সদস্য অনিল সিংহ রায় এবং নিতাই বসাক। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ এই ব্রিজটি উদ্বোধন করার পর প্রায় ২৬ বছর ধরে কোনরকম সংস্কার করা হয়নি।যদিও এই ব্রিজের উত্তর প্রান্ত দিয়ে আরেকটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে।জেলার হিলি শহর আন্তর্জাতিক বহি বাণিজ্য সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের পণ্য বোঝাই লরি গুলি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বহি বাণিজ্যের জন্য যাতায়াত করে। স্বাভাবিক কারণে দুইটি ব্রিজের উপরেই প্রচন্ডভাবে লড়ি বোঝাই গাড়িগুলির চাপ পড়ে।একটি ব্রিজের উপর দিয়ে অন্য বোঝাই গাড়িগুলি যাতায়াত করলেও বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসার পথে পাশে থাকা আরেকটি ব্রিজের উপর দিয়ে বেরিয়ে আসে অন্য লরিগুলি। স্বাভাবিক কারণে দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টির জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে অতি দ্রুত ব্রিজটি অকেজ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাই দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় দপ্তরের আধিকারিকের নজরে বিষয়টি আনার জন্য দাবি জানিয়েছেন সীমান্ত শহর হিলি এলাকার বাসিন্দারা। এই প্রসঙ্গে তথা হিলির পুরনো ব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টির জল নিষ্কাশনের বিষয়ে হিলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সরস্বতী সরকার মন্ডল সাথে কথা বলার জন্য ফোন করা হলে কোনভাবেই কথা বলা সম্ভব হয়নি।