নয়া জামানা ডেস্ক : মাধ্যমিকে মাত্র ১ নম্বরের জন্য মেধাতালিকায় জায়গা হয়নি। সেই আক্ষেপই যেন উচ্চ মাধ্যমিকে দুরন্ত সাফল্যের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠলেন আদৃত পাল। ৪৯৬ নম্বর পেয়ে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম হয়েছেন তিনি।
এই সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই খুশির আবহ পরিবার থেকে বিদ্যালয়— সর্বত্র। আদৃত বর্তমানে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন-এর ছাত্র। এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জনই এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র, যা ফের একবার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানকে সামনে এনে দিয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই আদৃতদের বাড়িতে শুভেচ্ছার হুড়োহুড়ি। আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী থেকে পরিচিতজন— সকলের অভিনন্দনে ভাসছে পরিবার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিডিও কল এর মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, এবং পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছেন।ব্যস্ততার মধ্যেই আদৃতের বাবা জীবনকৃষ্ণ পাল বলেন, আমরা খুব খুশি। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ ও শিক্ষকরা ওকে সঠিকভাবে গড়ে তুলেছেন। আমরা কখনও ওর উপর কোনও চাপ সৃষ্টি করিনি। ও নিজের ইচ্ছামতো পড়াশোনা করুক, সেটাই চাই।
আদৃতের কথাতেও উঠে এসেছে আত্মবিশ্বাস ও সংযমের বার্তা। সারাক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকার বদলে নিয়মিত ও পরিকল্পিত পড়াশোনাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। দিনে প্রায় ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন বলে জানিয়েছেন আদৃত। এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি পরিবার, শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশকেই দিয়েছেন।
আদৃত বলেন, ভালো ফলের আশা ছিল, কিন্তু রাজ্যে প্রথম হব ভাবিনি। মাধ্যমিকে খুব অল্পের জন্য র্যাঙ্ক করতে পারিনি, সেই খারাপ লাগা আজ অনেকটাই কমল। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা করতে চাই। আইজারে সুযোগ পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি আদৃতের আরেকটি বিশেষ আগ্রহ খাবার নিয়ে। পরিবারের সদস্যদের কথায়, নতুন কোনও খাবারের সন্ধান পেলেই তা চেখে দেখতে উৎসাহ হারান না তিনি। আদৃতের দাদুর কথায়, ও খুব পরিশ্রম করেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য পাক, এটাই চাই।