নয়া জামানা, কলকাতা : তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে ঘুরিয়ে আরএসএস-কেই সমর্থন করা। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে দাঁড়িয়ে এভাবেই আক্রমণ শানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর দাবি, বাংলায় মূল লড়াই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে। এই লড়াইয়ে তৃণমূল অনেকটা পিছনে থাকবে। শুভঙ্করের সাফ কথা, ‘তৃণমূল ও বিজেপি একই স্কুলের ছাত্র’। তিনি মনে করেন, আদর্শগতভাবে আরএসএস-এর সঙ্গে দুই দলেরই যোগ রয়েছে। শুভঙ্কর সরকারের মতে, ৪ মে ভোট বাক্স খুললে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাবে। তাঁর দাবি, একমাত্র কংগ্রেসই রাজ্যের ২৯৪টি আসনে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। অন্য কোনও দলের সেই শক্তি নেই। তাই একক শক্তিতে সরকার গড়ার দৌড়ে কংগ্রেসই সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিজেপি ও তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে রেখে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘লড়াইটা আদর্শ ও নীতিতে। আরএসএস-এর স্কুলের রেগুলার ছাত্র বিজেপি। আর তৃণমূল ডিস্ট্যান্সের ছাত্র। ফলে এদের যাকেই ভোট দেবেন, তার মানে আরএসএস-কে সাপোর্ট করা।’
রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে সরব হয়ে শুভঙ্কর জানান, গত ৪৮ বছর কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই। কিন্তু বাংলায় যা পরিকাঠামোগত কাজ হয়েছে, তা কংগ্রেস আমলেই হয়েছে। নতুন ভোটারদের কাছে তাঁর আবেদন, কংগ্রেস আমলের সঙ্গে বর্তমান সময়ের কাজের তুলনা হোক। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময়ে রাজ্যে কোনও প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। বেকার সমস্যা বা শিল্প নিয়ে কোনও চর্চা নেই। বদলে ইডি-সিবিআই অভিযান আর একে অপরকে গালিগালাজ করাই এখনকার রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভঙ্কর। তাঁর আক্ষেপ, ‘বাংলায় অভূতপূর্ব নির্বাচন হচ্ছে। এই উৎসবে প্রকৃত ভোটার অংশ গ্রহণ করতে না-পারলে শ্মশান যাত্রা।’ বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার জেরে বহু মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। তাঁর কটাক্ষ, ভোটার তালিকা থেকে মানুষ বাদ গেলেও প্রধানমন্ত্রী বা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছেন। এই ঘটনাকে ইতিহাসের পাতায় এক নজিরবিহীন অধ্যায় বলে তিনি বর্ণনা করেন। তৃণমূলের সঙ্গে জোট না করার বিষয়েও সুর চড়িয়েছেন তিনি। শুভঙ্কর বলেন, ‘সময়ের দাবি অনুযায়ী আগে জোট হয়েছিল। আজকে সময়ের দাবি অনুযায়ী কংগ্রেস একলা চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। সেই কারণেই কংগ্রেস জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। বাংলায় প্রকৃত পরিবর্তনের ডাক দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানান, এবার তাঁরা একাই সরকার গড়বেন। আগামী দিনে বাংলার শিল্প ও বেকারত্বের সমস্যা সমাধানই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে তৃণমূল ও বিজেপি— উভয় পক্ষকেই তীব্র আক্রমণ করে লড়াইয়ের ময়দানে জমি শক্ত করতে চাইছে বিধান ভবন।
আলিপুরদুয়ারের নাম বদলের হুঙ্কার বিজেপির, প্রতিবাদে রাজপথে তৃণমূল যুব কংগ্রেস