ব্রেকিং
  • Home /
  • দেশ /
  • ‘ভ্রূণহত্যা’ করল বিরোধীরা, বিল নিয়ে তোপ প্রধানমন্ত্রীর

‘ভ্রূণহত্যা’ করল বিরোধীরা, বিল নিয়ে তোপ প্রধানমন্ত্রীর

নয়া জামানা ডেস্ক : মহিলা সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পাশ হতে না পারার জন্য সরাসরি বিরোধী জোটকে কাঠগড়ায় তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই সংসদীয় ব্যর্থতাকে সরাসরি ‘ভ্রূণহত্যা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিরোধীদের প্রবল বাধায় মহিলাদের....

‘ভ্রূণহত্যা’ করল বিরোধীরা, বিল নিয়ে তোপ প্রধানমন্ত্রীর

নয়া জামানা ডেস্ক : মহিলা সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পাশ হতে না পারার জন্য সরাসরি বিরোধী জোটকে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : মহিলা সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পাশ হতে না পারার জন্য সরাসরি বিরোধী জোটকে কাঠগড়ায় তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই সংসদীয় ব্যর্থতাকে সরাসরি ‘ভ্রূণহত্যা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিরোধীদের প্রবল বাধায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করতে না পারায় দেশের মা-বোন ও কন্যাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর অভিযোগ করে বলেন, বিরোধীরা কেবল একটি বিল আটকে দেয়নি, তারা আসলে নারীশক্তির এক ‘সৎ চেষ্টার ভ্রূণহত্যা’ করেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণের শুরুতেই বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘সৎ চেষ্টার ভ্রূণহত্যা করল কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের মতো দলগুলি।’ মোদীর দাবি, লোকসভায় এই সংবিধান সংশোধন বিলটি পাশ না হওয়ায় কংগ্রেসের অন্দরে খুশির হাওয়া দেখা গিয়েছে, তারা হাততালি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় ছিল মূলত কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টি। তাঁর অভিযোগ, এই দলগুলি আসলে আগাগোড়া ‘নারীশক্তি বিরোধী’। মোদী এদিন স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, নারীদের উত্থান হলে পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি রাজনৈতিক বিপদে পড়বে, আর সেই ভয় থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই বিলের বিরোধিতা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে আসন পুনর্বিন্যাস প্রসঙ্গও। তাঁর অভিযোগ, আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে বিরোধীরা। তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টিকে সরাসরি বিঁধে তাঁর মন্তব্য, ‘মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তৃণমূলের কাছে। কিন্তু সেই সুযোগ তারা নষ্ট করল। একই পথে হাঁটল সমাজবাদী পার্টিও।’ কংগ্রেসকে ‘সংস্কারবিরোধী’ তকমা দিয়ে মোদী বলেন, ‘কংগ্রেস যখনই সংস্কারের কথা শোনে, তখনই সেটি থামানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি ভেবেছিলাম কংগ্রেস তার শতাব্দীপ্রাচীন ভুলগুলো সংশোধন করে নেবে। কিন্তু পরজীবীর মতো আঞ্চলিক দলগুলির সাহায্যে বেঁচে আছে কংগ্রেস। তারা মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর এবং নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ নষ্ট করল।’ বিলটি আটকে যাওয়াকে বড় ‘পাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘দেশের মানুষ এই পাপ ক্ষমা করবে না।’ আবেগঘন গলায় মোদী বলেন, ‘এক জন মহিলা অনেক কিছু ভুলে যেতে পারেন। কিন্তু এই অপমান তিনি কখনও ভুলবেন না। এই ধরনের আচরণের যন্ত্রণা দেশের মহিলাদের হৃদয়ে রয়ে যাবে।’ তবে আইনি বাধার মুখে পড়েও পিছু হটতে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের প্রয়াস থামবে না।’ মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই জারি থাকবে বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিরোধীদের এই নেতিবাচক আচরণ নারীশক্তির অবমাননা হিসেবেই দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস ও তার সঙ্গীরা আসলে প্রগতির চাকা থামিয়ে দিতে চাইছে। তবে এই বঞ্চনার জবাব দেশবাসী দেবে বলেই দাবি তাঁর। এদিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার ভাঙড়ের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে মহিলা শেখাবেন না। বাংলাই পথ দেখায়। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করছি।’ তাঁর দাবি, বাংলায় পঞ্চায়েত ও পুরসভায় ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ আগেই দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী জানান, তাঁর দলে রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ এবং লোকসভায় ৩৭ শতাংশ মহিলা সাংসদ রয়েছেন, যা অন্য কোনও দলে নেই। মমতার অভিযোগ, মহিলা বিলের আড়ালে ছিল ‘বদ উদ্দেশ্য’। তিনি বলেন, ‘মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল ঢুকিয়ে দিয়েছে যাতে বাংলাকে টুকরো করতে পারে। উত্তরপ্রদেশকে টুকরো করতে পারে। দেশকে টুকরো করতে পারে। টুকরো টুকরো গ্যাং। এটা ছিল আসল পরিকল্পনা।’ ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে এনআরসি করে মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসআইআরের নামে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে। ফাইল ফটো।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর