নয়া জামানা ডেস্ক : ত্রিপুরার স্বশাসিত জেলা কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনে বিজেপিকে ধুলিসাৎ করে দিলেন প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। ২৮টি আসনের মধ্যে ২৪টিতেই জয়ী তিপ্রা মথা। তবে এই অভাবনীয় সাফল্যকে নিছক ‘জয়’ বলতে নারাজ মথা প্রধান। প্রদ্যোত শনিবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এটা জয় নয়। এটা বার্তা।’ আর এই বার্তার লক্ষ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লিতে সই হওয়া চুক্তি রূপায়ণে গড়িমসি করলে রাজ্য সরকার থেকে বেরিয়ে আসার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মথা প্রধানের এই হুঙ্কারে ত্রিপুরার রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জনজাতি মহলে ক্ষোভ ছিলই, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ব্যালট বক্সে। প্রদ্যোতের নিশানায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও। নির্বাচনের আগে প্রদ্যোতের দলকে নিয়ে মানিকের একাধিক মন্তব্য বুমেরাং হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জনরাজা এই মন্তব্যের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছে বলে দাবি মথা প্রধানের। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী যে সব বিবৃতি দিয়েছিলেন, মানুষ তার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।’ সরকারে থেকেও বিজেপির বিরুদ্ধে এই লড়াই নিয়ে সরব প্রদ্যোত। তাঁর নজর এখন কেন্দ্রের দিকে। অমিত শাহের ব্যস্ততা কমলে তিনি কথা বলবেন। প্রদ্যোতের কথায়, ‘কেন্দ্র যদি বলে, চুক্তি বাস্তবায়িত করবে, তা হলে সরকারে থাকব। না-হলে সরকার থেকে বেরিয়ে আসব।’ অর্থাৎ, দাবি আদায় না হলে মানিক সাহার মন্ত্রিসভা ছেড়ে রাজপথের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি।
বিপ্লব দেবের জমানায় মথার সঙ্গে বিজেপির যে সৌজন্য ছিল, মানিক সাহার সময়ে তা তিক্ততায় পৌঁছেছে। গতবার বিজেপি ৯টি আসন পেলেও এবার মাত্র ৪টিতে আটকে গিয়েছে। বিরোধী দল থেকে সরকারে যোগ দিলেও শাসক দলের সঙ্গে সংঘাত এখন চরমে। ব্যক্তিগত স্তরে অনেকের সঙ্গে কথা হলেও প্রদ্যোত এখন শুধু চুক্তির বাস্তবায়ন চান। অন্যথায় ত্রিপুরার ডাবল ইঞ্জিন সরকারে ভাঙন কেবল সময়ের অপেক্ষা। প্রদ্যোত সরাসরি শাহকে বার্তা দিয়েছেন, কাজ না হলে আপস নয়। ফাইল ফটো।
‘সরকারে থেকেও যেন বিরোধী হয়ে গেছি’ বড়ঞায় ভান্ডারের কাহিনী শোনালেন মমতা