নয়া জামানা ডেস্ক : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে নতুন করে কোমর বাঁধছে বিরোধী শিবির। শনিবার বিরোধীদের এক বৈঠকে এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে তৃণমূলের শীর্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ফের ইমপিচমেন্ট নোটিস আনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বিরোধী সাংসদেরা। এবারের লক্ষ্য, সরকারের সাম্প্রতিক সংসদীয় ব্যর্থতাকে কাজে লাগিয়ে জোটের শক্তি প্রদর্শন করা। গত শুক্রবারই লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। বিলের পক্ষে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় পিছু হটতে হয়েছে কেন্দ্রকে। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। সংসদের এই জয়ের পর অক্সিজেন পাওয়া বিরোধী শিবির এবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দিকে তির ছুড়ছে। শুক্রবারই এই বিষয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সূত্রের দাবি, ইমপিচমেন্ট নোটিসের খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাঁচ বিরোধী দলের পাঁচ সাংসদকে। সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তৃণমূল সূত্রে খবর, গতবার যখন এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তখন তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিল কংগ্রেস, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলি। সেবার লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই করেছিলেন। যদিও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণ সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিলেন। তবে হাল ছাড়তে নারাজ বিরোধীরা। তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ সংখ্যা ৪১ (মৌসম বেনজির নূর ইস্তফা দেওয়ার পর), যা এই লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুক্রবারের সংসদীয় পাটিগণিত মোদী সরকারের কাছে বড় ‘ধাক্কা’। বিরোধী ঐক্যের যে ছবি বর্তমানে ফুটে উঠেছে, তাকেই হাতিয়ার করে জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করতে চাইছেন রাহুল-অভিষেকরা। নতুন করে ইমপিচমেন্ট নোটিস জমা দেওয়ার এই তোড়জোড় কেন্দ্রকে আরও চাপে ফেলার কৌশলী চাল বলেই মনে করছেন কারবারিরা। সব মিলিয়ে, দিল্লির অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন—সাংসদদের নতুন স্বাক্ষর কি টলাতে পারবে জ্ঞানেশের গদি? ফাইল ফটো।