নয়া জামানা ডেস্ক : নদিয়া, কলকাতা এবং পূর্ব বর্ধমানে কোনও পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না। দ্বিতীয় দফার ভোটের পর স্ক্রুটিনি শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে বাকি চার জেলা নিয়ে এখনও দোলাচল কাটেনি। স্ক্রুটিনির রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওই কেন্দ্রগুলিতে পুনরায় ভোট হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে কমিশন। বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের সময় একাধিক অশান্তির অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই নিরিখে ফলতা, মগরাহাট ও সোনারপুরের মতো এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে রাজ্যজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। ভোটের দিন মগরাহাট বা ফলতায় বিক্ষিপ্ত গন্ডগোলের খবর মিলেছিল। ফলতায় একটি বুথে ইভিএম-এর উপর বিজেপি এবং সিপিএম-এর বোতামে ‘টেপ’ লাগানো ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আবার উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের ধাক্কায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। সূত্রের খবর, খোদ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ফোন করেছিলেন সুব্রতকে। কমিশনের নির্দেশে তিনি ইতিমধ্যেই ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে গিয়েছেন। মূলত তাঁর রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে বাকি জেলাগুলির ভাগ্য। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, ‘ভোটগ্রহণের পর অভিযোগগুলি বিবেচনা করে পুনর্নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ কমিশন সূত্রে খবর, নদিয়া বা কলকাতায় পুনরায় ভোটের মতো পরিস্থিতি নেই। তবে ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে চলছে কঠোর নজরদারি। ২৯৪টি আসনের ভোট গণনার জন্য ৭৭টি কেন্দ্র নির্দিষ্ট করেছে কমিশন। শেষ মুহূর্তে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কিছুটা কমানো হয়েছে। সোমবারই জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। ভোটের ফল নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো বার্তায় দাবি করেছেন, ‘বিজেপি টাকা দিয়ে জোর করে বুথফেরত সমীক্ষার ওই ফল সম্প্রচার করতে বাধ্য করেছে সংবাদমাধ্যমগুলিকে।’ গেরুয়া শিবির অবশ্য এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ। তাদের দাবি, আগামী সোমবারই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে ব্যালট বক্সে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। গণনার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আবারও জেলা সফরে বেরোচ্ছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল । নির্বাচনের আগে প্রস্তুতির তদারকি করতে তিনি বিভিন্ন জেলায় গিয়েছিলেন। এবার গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং প্রোটোকল খতিয়ে দেখতে তাঁর এই সফর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গণনাই এখন কমিশনের পাখির চোখ। আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‘রাজ্যে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করানোই তাঁর লক্ষ্য।’ সেই লক্ষ্য পূরণে পর্যবেক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিক বদল— সব পথই খোলা রেখেছে কমিশন। এখন শুধু চূড়ান্ত মুহূর্তের অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত কতগুলি আসনে ফের ভোট হয়, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলোর। ফাইল ফটো।