প্রদীপ কুন্ডু ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ কোচবিহার: রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে নজির গড়ে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে চেপে আকাশপথে ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও কোচবিহার ঘুরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে মালদহ, তারপর উত্তর দিনাজপুর এবং শেষে কোচবিহারে পৌঁছে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি যাচাই করেন সিইও। মঙ্গলবার কোচবিহার থেকে বায়ুসেনার কপ্টারে সরাসরি পশ্চিম মেদিনীপুরে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিকেলেই কলকাতায় ফেরার কথা তাঁর। পুরো সফরে দায়িত্বে রয়েছেন উইং কমান্ডার প্রদীপ এ হরিহরণ।
অতীতে ২০০৬ সালে তৎকালীন সিইও দেবাশিস সেন মালদহ ও মুর্শিদাবাদে হেলিকপ্টারে পরিদর্শন করলেও বায়ুসেনার হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার ঘটনা এই প্রথম। প্রশাসনিক মহলে একে নজিরবিহীন উদ্যোগ বলা হচ্ছে।
তবে সিইও-র এই কপ্টার সফর ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অযথা প্রশ্নের মুখে ফেলছে এবং দেশের সামনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিদায়ী মন্ত্রী তথা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যাতে সিইও-কে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে থেকে বায়ুসেনার কপ্টারে করে ভোট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হয়। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে।
যদিও নির্বাচন কমিশন শিবির শাসকদলের সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের যুক্তি, সীমিত সময়ে বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকায় দ্রুত পরিদর্শন ও প্রস্তুতি যাচাই করতেই এই ব্যবস্থা। পাশাপাশি ভোটের উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছে শাসকদলও।
সিইও-র এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ প্রশাসনিক মহলে নজর কাড়লেও রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।