নয়া জামানা ফাঁসিদেওয়া ডেস্ক: সুপারস্টার বলে কথা। তাই তাঁকে এক ঝলক দেখতে দুই ঘণ্টার অপেক্ষা কেউ আমলই দিলেন না। সোমবার ফাঁসিদেওয়া বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী রিনা টোপ্পো এক্কার সমর্থনে মিলনপল্লি মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান আকর্ষণ ছিলেন সাংসদ দেব।
অভিনেতাকে দেখতে কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি চা শ্রমিকদের প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। দর্শকদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন চা বাগান থেকে এসেছিল। অনেকে এদিন রোজকার কাজ স্বেচ্ছায় বন্ধ রেখেছিলেন। অভিনেতা দর্শনের সুযোগ হওয়ায় এদিনের আর্থিক ক্ষতিকে তাঁরা হাসিমুখে উড়িয়ে দিয়েছেন। মিলনপল্লির মাঠে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’ঘণ্টা পর পৌনে ৫টা নাগাদ দেব কপ্টার থেকে নামতেই ছবি তোলার হিড়িক পড়ে। অনেকেই অভিনেতার হাতে গোলাপ তুলে দেন। বিধাননগরের এক তরুণীর আই লাভ ইউ দেবদা লেখা প্ল্যাকার্ড দেখে দেব হেসে তাতে সই করেন।
মঞ্চে রিনার সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেব রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পকে হাতিয়ার করেন। উন্নয়ন ভালো লাগলে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। ধর্মের নামে রাজনীতি করা মানুষদের ভোট দেওয়া উচিত নয় বলে সাংসদ সবাইকে জানান। যোগী আদিত্যনাথের বলা উত্তর বিহার প্রসঙ্গে দেবের মন্তব্য, কথাটি হয়তো ওঁর মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এটা বিহার নয় বাংলা। এখানে সব রাজ্যের মানুষই থাকেন। অভিনেতা পৌঁছানোর আগেই এদিন মাঠ ভরে গিয়েছিল। মতিধরের চা শ্রমিক শর্মিলা দাস বলেন, দেবকে দেখতে ৩টার সময় কাজ ছেড়ে গিয়েছিলাম। পরে বসার চেয়ারও পাইনি। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হল। অভিনেতাকে দেখে খুব ভালো লেগেছে। সৈয়েদাবাদ চা বাগানের সাব্বির এক্কার কথায়, অভিনেতাকে দেখতে ২টা নাগাদ কাজ ছেড়ে মোটরবাইক নিয়ে মিলনপল্লি মাঠে গিয়েছিলাম। মহিলাদের টোটো করে পাঠিয়েছিলাম। দলীয় সভায় গেলে অনেক সময় তেলের টাকা পাওয়া যায়। আজ সেটাও পাইনি। এদিকে হাজিরার টাকাও বাদ গিয়েছে। তবে দেবকে সামনে থেকে দেখে আনন্দ হয়েছে।
সভায় এসে জগন্নাথপুরের কিশোরী সোনালি মুর্মু মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিল। তাকে বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অভিনেতাকে দেখতে না পাওয়ায় কিশোরীর মন খুবই খারাপ। মঞ্চের সামনের চেয়ারে বসা খুদে ঊর্মি ও সায়ন অবশ্য খোকাবাবুকে দেখে খুবই খুশি। মহিলারা কোলে বাচ্চা নিয়ে এসেছিলেন। দুটি বাচ্চা হারিয়ে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। মঞ্চ থেকে মাইকে ঘোষণা করে তাদের পরিবারের হাতে দেওয়া হয়। ধর্মের রাজনীতি প্রসঙ্গে অভিনেতার সংযোজন, বাবরি মসজিদের নামে ভোট চাওয়া হচ্ছে, এটা কি ঠিক। উন্নয়নের নিরিখে ভোট হওয়া উচিত। সেই অনুযায়ী সাধারণ মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। বেরিয়ে যাওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী দেব বলে যান, আগের বারের চেয়ে এবারে আমরা অনেক বেশি ভালো ফল করব। অনেক বেশি সিটে জয় হবে।
‘চাকরি গেলে আমরা দেব’ : মমতা প্রস্তুত আই-প্যাকের ’বিকল্প বাহিনী’