• Home /
  • মহানগর /
  • ভবানীপুরের কঠিন কেন্দ্রে লিড, বাড়াতে জাভেদে ভরসা মমতার

ভবানীপুরের কঠিন কেন্দ্রে লিড, বাড়াতে জাভেদে ভরসা মমতার

নয়া জামানা, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে নতুন রণকৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা ভোটের ক্ষত সারাতে এ বার ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল কসবার বিধায়ক তথা মন্ত্রী জাভেদ খানকে। মূলত বিজেপির শক্ত....

ভবানীপুরের কঠিন কেন্দ্রে লিড, বাড়াতে জাভেদে ভরসা মমতার

নয়া জামানা, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে নতুন রণকৌশল নিল....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে নতুন রণকৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা ভোটের ক্ষত সারাতে এ বার ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল কসবার বিধায়ক তথা মন্ত্রী জাভেদ খানকে। মূলত বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই ওয়ার্ডে ঘাসফুলের জমি পুনরুদ্ধার করাই এখন জাভেদের প্রধান লক্ষ্য। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে ওই ওয়ার্ডের ভোট পরিচালনার যাবতীয় দেখভাল করবেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল দুই হেভিওয়েট নেতা সুব্রত বক্সী ও ফিরহাদ হাকিমকে। ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। অন্য দিকে ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের দেখভালের ভার দেওয়া হয়েছিল কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। কিন্তু ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির ক্রমবর্ধমান দাপট রুখতে শেষ মুহূর্তে সেখানে জাভেদ খানকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কালীঘাট। লক্ষ্য একটাই, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীর জয়ের ব্যবধানকে রেকর্ড স্তরে নিয়ে যাওয়া। বিগত কয়েক বছরের নির্বাচনের পরিসংখ্যান তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে এই ভবানীপুর কেন্দ্রেই সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন বিজেপির তথাগত রায়। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও দেখা গিয়েছে, গোটা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও ৫-৬টি ওয়ার্ডে পদ্ম শিবিরের দাপট অটুট। এর মধ্যে ২০১০ সাল থেকে সুস্মিতা ভট্টাচার্য তৃণমূলের কাউন্সিলর হওয়া সত্ত্বেও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে বার বার পিছিয়ে পড়েছে শাসকদল। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও এই ওয়ার্ডে বিজেপি ১,৪৬৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। বিধানসভা ভোটে সেই হারের পুনরাবৃত্তি রুখতেই জাভেদকে ময়দানে নামানো হয়েছে। যদিও ‘দায়িত্ব’ পাওয়ার কথা সরাসরি মানতে চাননি জাভেদ খান। তাঁর কথায় বিনম্রতার সুর। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘আমায় দল ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছে। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী অনেক কাজ করেছেন। সেই কাজগুলি ওই ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি মানুষের জানা উচিত। আমি ওই ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাদি ভবানীপুরে কী কী কাজ করেছেন, সে কথা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেব।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, সুব্রত বক্সীর মতো প্রবীণ নেতার দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ডে জাভেদকে নামানোটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দলের অন্দরের গুঞ্জন, রাজ্য সভাপতিকে বিড়ম্বনায় না ফেলতেই জাভেদ একে ‘দেখভাল’ বলছেন। আদতে লক্ষ্য সেই লিড বৃদ্ধি। যেমন ভাবে ফিরহাদ হাকিম নিজের কেন্দ্র কলকাতা বন্দরের চেয়েও বেশি সময় দিচ্ছেন ভবানীপুরের বাড়ি বাড়ি প্রচারে, জাভেদকেও ঠিক সেই মেজাজেই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের ঘুঁটি সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, কসবার মন্ত্রীর হাত ধরে এই প্রতিকূল ওয়ার্ডে তৃণমূলের ‘ভোট-ভাগ্য’ কতটা ফেরে। দিনরাত এক করে জনসম্পর্ক বাড়িয়ে ব্যবধান ঘোচানোই এখন শাসক শিবিরের পাখির চোখ।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর