নয়া জামানা ডেস্ক : সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইয়ের নাম ঘোষণা করল ইরান। সোমবার তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ সভা বা ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স’ সর্বসম্মতিক্রমে মোজতবাকেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই এই পদের উত্তরাধিকার নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। অবশেষে মোজতবার হাতেই গেল ইরানের শাসনের চাবিকাঠি। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে এখন থেকে তাঁর সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
ক্ষমতা হস্তান্তরের এই আবহে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগুন আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে মোজতবা দায়িত্ব নিচ্ছেন, অন্যদিকে বাহরিনের ‘বাপকো’ তৈল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার সকাল থেকে সিত্রা এলাকা ও শোধনাগার চত্বর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। একই সঙ্গে ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থীরা। পাল্টা হামলা থামায়নি ইজরায়েলও। আইডিএফ জানিয়েছে, মধ্য ইরানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে গোলাবর্ষণ শুরু করেছে তারা। লেবাননের বেইরুটেও হিজবুল্লা ঘাঁটি লক্ষ্য করে চলছে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ।
মোজতবাকে উত্তরসূরি ঘোষণা করার আগে থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল ইজরায়েল। রবিবারই ইজরায়েলি সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ‘খামেনেইয়ের কুর্সিতে যিনি বসবেন, তিনিই হবেন পরবর্তী নিশানা।’ এমনকি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই মোজতবাকে বেছে নিল ইরান। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এই নির্বাচন ইরানের জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।’ তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমেরিকার শর্তে আত্মসমর্পণের কোনও প্রশ্নই নেই।
এর আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে ওয়াশিংটনের মত নেওয়া প্রয়োজন। তবে তেহরান সেই দাবিকে বিন্দুমাত্র আমল দেয়নি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। তাঁর মতে, শান্তির জন্য বিশ্বকে এই ‘সামান্য মূল্য’ দিতেই হবে। রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের দূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ১৩৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী স্বতন্ত্রভাবে কাজ করলেও, এখন তারা মোজতবার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছে। পশ্চিম এশিয়ার এই রণক্ষেত্রে ইরানের নতুন নেতার উত্থান পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।