নয়া জামানা,কলকাতা:দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও বিতর্কিত দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬ বৃস্পতিবার বিধানসভায় পেশ হল এবং পাশও হয়ে গেল।এই বিলের মাধ্যমে রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার ক্ষমতা পাচ্ছে রাজ্য সরকার। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাজ্যের সব প্রান্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নতমানের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই এই সংশোধনীর লক্ষ্য।গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিলটির কথা জানান। এরপর বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আয়োজিত গেরুয়া সম্মান যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ফের এই বিশেষ অধিবেশন ও বিল প্রসঙ্গে সরব হন তিনি।ততক্ষণে বিলটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়ে রাজ্যপালের কাছেও পাঠানো হয়ে গিয়েছিল।অবশেষে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে বিধানসভায় বিলটি পেশ করা হয়।নতুন আইন অনুযায়ী রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি হবে। যাঁরা দীর্ঘদিন কলকাতা বা রাজ্যের অন্য বড় শহরের পুরনো,প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপনা করছেন, তাঁদের এবার রাজ্যের তুলনামূলক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও গিয়ে পড়াতে হতে পারে। শুধু শিক্ষকই নন, একই নীতি প্রযোজ্য হবে শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও।বিলটি নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক হয়বিরোধীরা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসিত ক্ষমতা খর্ব হওয়া নিয়ে। এক রাজ্য, এক শিক্ষা নীতি প্রসঙ্গে বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিয়োগ সরকার করে না, করেন উপাচার্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি ও পরিচালনার নিয়মও আলাদা, নিজস্ব আইন অনুযায়ী চলে। তাঁর আশঙ্কা, সরকারের সমালোচনা করলে কাউকে এমন জায়গায় বদলি করে দেওয়া হতে পারে, যেখানকার নিয়মকানুন সম্পূর্ণ আলাদা-আর তাতেই আসল সমস্যা তৈরি হবে। পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে আসলে আইনকে হাতিয়ার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষমতা সংকুচিত করা হচ্ছে, এবং বদলির অজুহাতে সরকার-বিরোধী কণ্ঠস্বরদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।অন্যদিকে অধ্যাপকদের একাংশ বিলের পক্ষে সওয়াল করে বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জোরে একশ্রেণির অধ্যাপক নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে রেখেছেন। তাঁদের মতে, এই ঘুঘুর বাসা ভাঙা প্রয়োজন, আর সেই কাজেই সহায়ক হবে নতুন বদলি নীতি।বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আইনত স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায়, সেখানকার শিক্ষক, আধিকারিক বা শিক্ষাকর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে রাজ্য সরকারের কর্মী নন। ফলে বিল পেশের পর থেকেই শিক্ষামহলে একটি বড় প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল,এই বদলি প্রক্রিয়া কি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর সম্মতিক্রমে হবে, নাকি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্তে?