আমিনুর রহমান, নয়া জামানা, বর্ধমান : আইএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হতেই সাফল্যের জোয়ার ভাসিয়ে দিয়েছে বর্ধমান জেলাকে। সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের ছাত্রী নীপবীথি দত্ত ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি করেছেন। ৯৯.৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করে তিনি রাজ্যের সম্ভাব্য প্রথম স্থানাধিকারী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। নীপবীথির এই কৃতিত্ব কেবল তাঁর পরিবারের জন্য নয়, বরং সমগ্র জেলার শিক্ষা মহলে এক গভীর গর্বের সঞ্চার করেছে। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী এই ছাত্রী তাঁর মেধা ও পরিশ্রমের যোগ্য মর্যাদা পেয়েছে বলেই পরিবার ও প্রতিবেশীদের মতমত।

নীপবীথির পারিবারিক পটভূমি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাঁর বাবা অভিজ্ঞান দত্ত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক এবং মা মহাশ্বেতা রায় দত্ত বর্ধমান রাজ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপিকা। শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ বাড়িতে থাকলেও নীপবীথি তাঁর সাফল্যের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁর ঠাকুমাকে। তাঁর মতে, ঠাকুমাই তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু এবং পথপ্রদর্শক। পড়াশোনার চাপে অনেক সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও ঠাকুমার সান্নিধ্য তাঁকে সর্বদা নতুন করে উৎসাহ দিয়েছে। কেবল পাঠ্যপুস্তক নয়, নীপবীথির ঝোঁক রয়েছে সৃজনশীল কাজের প্রতিও। অবসর সময়ে সে নাচ, গান এবং আঁকা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। এছাড়াও সে একজন বড় মাপের বইপ্রেমী। রহস্য রোমাঞ্চ গল্প পড়তে নীপবীথি অত্যন্ত পছন্দ করেন। যার মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট ফেলুদা চরিত্রটি তাঁর সবথেকে প্রিয়। নীপবীথি ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষায় মনোনিবেশ করতে চায়। তাঁর স্বপ্ন গবেষণার পথে হেঁটে বিজ্ঞান জগতের রহস্য উন্মোচন করা।