ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • শেষ দফাতেও উত্তপ্ত বাংলা : ভবানীপুর থেকে ভাঙড়, সেই বিক্ষিপ্ত অশান্তিতেই কাটল ভোট

শেষ দফাতেও উত্তপ্ত বাংলা : ভবানীপুর থেকে ভাঙড়, সেই বিক্ষিপ্ত অশান্তিতেই কাটল ভোট

নয়া জামানা ডেস্ক : প্রথম দফার সেই চেনা মেজাজ বজায় থাকল শেষ দফাতেও। বুধবার রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মোটের উপর ‘নির্বিঘ্ন’ বলে দাবি প্রশাসনের তরফে। বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত কোথাও কোনও বড়সড় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর না এলেও ভবানীপুর,....

শেষ দফাতেও উত্তপ্ত বাংলা : ভবানীপুর থেকে ভাঙড়, সেই বিক্ষিপ্ত অশান্তিতেই কাটল ভোট

নয়া জামানা ডেস্ক : প্রথম দফার সেই চেনা মেজাজ বজায় থাকল শেষ দফাতেও। বুধবার রাজ্যের বাকি....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : প্রথম দফার সেই চেনা মেজাজ বজায় থাকল শেষ দফাতেও। বুধবার রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মোটের উপর ‘নির্বিঘ্ন’ বলে দাবি প্রশাসনের তরফে। বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত কোথাও কোনও বড়সড় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর না এলেও ভবানীপুর, ভাঙড়, গোঘাট কিম্বা বালির মতো স্পর্শকাতর পকেটগুলিতে দিনভর চলল টানটান উত্তেজনা। কোথাও স্লোগান-যুদ্ধ, কোথাও প্রার্থীর সামনেই কর্মীদের মারধর, আবার কোথাও পুলিশের বিরুদ্ধে মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ— সব মিলিয়ে শেষ লপ্তের ভোটও রইল রীতিমতো হাইভোল্টেজ।

এ বারের শেষ দফায় রাজ্য তথা দেশের নজর ছিল খাস কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে। কারণ সেখানে যুযুধান দুই শিবিরের লড়াই। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেড়ে আসা আসনে এ বার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে শুভেন্দু পৌঁছতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী ভ্রাতৃবধূ তথা স্থানীয় কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেন বিজেপি সমর্থকরা। শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। শুভেন্দু যখন পটুয়াখালি পাড়া থেকে নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন কাজরীর মুখোমুখি হন তিনি। স্লোগান-যুদ্ধে সেই সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীঘাটের জয় হিন্দ ভবন চত্বর।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়েও এ দিন ছবিটা ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আইএসএফ প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে দেখে বিক্ষোভ দেখান শাসকদলের কর্মীরা। তবে ভাঙড়ের যা চেনা ছবি, সেই রক্তপাত বা ব্যাপক বোমাবাজি এ দিন দেখা যায়নি। বাহিনীর তৎপরতায় কিছু ক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অন্য দিকে, বাসন্তীর ৭৬ নম্বর বুথেও উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায় তৃণমূল কর্মীদের। অভিযোগ, ভোটারদের হেনস্থা করছিল বাহিনী। স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজা গাজির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুই যুবককে পুলিশ আটক করায় এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বকুলতলাতেও তৃণমূলের শিবিরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বালি বিধানসভাতেও ভোট মিটল বাদানুবাদের মধ্যে দিয়ে। সেখানে মহিলাদের সঙ্গে পুলিশের অভব্য আচরণের অভিযোগ ওঠে। বালি লালাবাবু সায়র রোডে মহিলা তৃণমূল কর্মীদের হেনস্থার প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি সাফ জানান, ‘পুলিশকে ক্ষমা চাইতে হবে’। সাতগাছিয়া বিধানসভার ১১৬ নম্বর বুথে আবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিতে এক শিশু জখম হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয় এলাকা। লাঠিচার্জের সময় ওই খুদে সদস্য আঘাত পাওয়ায় জওয়ানদের সঙ্গে রীতিমতো বচসায় জড়ান স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ এ দিন নজর কাড়লেন অন্য ভাবে। সোমবার তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। গুরুতর চোট পেয়ে তিনি আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেই অবস্থাতেই বুধবার ১৩৯ নম্বর বুথে অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে এসে ভোট দেন তিনি। বুথ থেকে বেরিয়ে মিতালি বলেন, ‘বিজেপি বাংলার গণতন্ত্রকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। আরামবাগে অভিষেকের জনসভায় যাওয়ার পথে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, গাড়িতে হামলা চলেছিল। আমি বেঁচে ফিরেছি। নির্বাচন কমিশন এ বার বলেছিল ভোট শান্তিতে হবে!’

কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন সপরিবার ভোটদান করেন। নিজের সমাজমাধ্যমের পেজে ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘পরিবারকে পাশে নিয়ে নাগরিক হিসাবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকারের প্রয়োগ করলাম। আপনার ভোট নিজে দিন।’ প্রসঙ্গত, ভোটের আগের রাতে ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী তল্লাশি চালিয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন। ফিরহাদ মূলত মমতার কেন্দ্রের এজেন্ট ও অন্যতম প্রধান সংগঠক।

হুগলির চুঁচুড়ায় আবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সব ক’টি পক্ষই। তৃণমূল, বিজেপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক— তিনটি দলেরই ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বাহিনীর বিরুদ্ধে। ভোটার তালিকা এবং দলীয় পতাকা ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তৃণমূলের দাবি, কমিশন নির্দিষ্ট দূরত্বে ক্যাম্প করা সত্ত্বেও কোনও সতর্কতা না দিয়েই বাহিনী আচমকা চড়াও হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ‘এত বছরের ভোটে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল।’

নদিয়ার নবদ্বীপের বাবলারি এলাকার ৩৩ নম্বর বুথে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রার্থীর সামনেই কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দু’জনকে আটক করে। আবার মধ্য হাওড়ার নরসিংহ বোস লেনে ধারালো অস্ত্র হাতে এক যুবককে ঘুরে বেড়াতে দেখে আতঙ্ক ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই যুবক অস্ত্র দেখিয়ে বাসিন্দাদের বিজেপিতে ভোট দিতে বলছিল। শিবপুর থানার পুলিশ তাকে অস্ত্র-সহ আটক করেছে।

সব অশান্তির মাঝেও এক বিষণ্ণ ছবির সাক্ষী থাকল কালীগঞ্জ। সেখানে সিপিএম প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন যখন ভোট দিয়ে বেরোচ্ছেন, তাঁর চোখ ভিজে এল মেয়ের স্মৃতিতে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ছোট্ট মেয়ে তমন্নার হাত ধরে ভোট দিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজয় উৎসবের হিংসায় প্রাণ হারিয়েছিল সেই একরত্তি মেয়েটি। সাবিনা বলেন, ‘আগের বার মেয়ের হাত ধরে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। আজ ও নেই। শুধু ওর স্মৃতিটুকু সম্বল করে লড়াইয়ে নেমেছি।’ বিমান বসুর কাছে ‘শহিদ জননী’ আর মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের কাছে ‘বোনের মতো’ সাবিনা স্পষ্ট জানান, স্মৃতিমেদুর হলেও লক্ষ্য থেকে তিনি সরছেন না। জয়ের লক্ষ্যেই তিনি লড়ছেন। এ ভাবেই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর স্মৃতির আড়ালে শেষ হল বাংলার শেষ দফার মহারণ। ছবি পিটিআই। ভবানীপুরে ।


কেউ চান পরিবর্তন, আবার কেউ প্রত্যাবর্তন, ভোট দিয়ে আত্মবিশ্বাসী সব দলের প্রার্থীই

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর