নয়া জামানা, বীরভূম: বোলপুরে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের ট্রাইবুনাল কোর্টে আবেদন জানাতে শতাধিক মানুষ সকাল থেকে ভিড় করেন। বৃহস্পতিবার এই কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া থাকায় পুলিশ প্রশাসন তাঁদের দুপুর তিনটে নাগাদ প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের নির্দেশ দেন। এতটা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে তাঁরা চরম ক্ষোভ দেখান। উল্লেখ্য, এদিন মনোনয়ন পত্র জমা দেন বিজেপি ও তৃণমূল প্রার্থীরা। মহকুমা শাসকের দপ্তর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। ওই পথে যানবাহন সহ মানুষদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এমনকি অন্যান্য অফিসিয়াল কাজও বন্ধ ছিল বেলা তিনটে অবধি। আর তার ফলেই বোলপুর মহকুমায় দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরা হয়রানিতে পড়েন বলে জানান।এদিনে মূলত এসআইআর নাম বাদ যাওয়া প্রায় কয়েকশো ভোটার বাইরে এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আর তারপরে একেবারে শেষ বেলায় ঢোকার সুযোগ দেওয়া হলে তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এদিন এসআইআর এর লাইনে দাঁড়ানো নানুর পঞ্চায়েত সমিতির দুবারের সদস্য শেখ ইসমাইল বলেন, আমি নিজে দুবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। আমার সমস্ত বৈধ নথি আছে। তাও তাও নাম বাদ গেছে। সারাদিন বোলপুরে এসে প্রচন্ড হয়রানি হল।এভাবে ভোটের আগে এসআইআর করার কোন মানে হয় না। অন্যদিকে, সৈয়দ গোলাম হোসেন ও সৈয়দ জাকির হোসেন তাঁদের মাকে নিয়ে এদিন সকাল ১১ টা থেকে এসেছিলেন। জানা গিয়েছে , মায়ের নামও বাদ পড়েছে। তিনি ঠিক করে হাঁটতে পারেন না। সেই দুই ছেলে ধরে তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন লাভপুর থেকে।
অন্যদিকে নানুর থেকে আসা মোঃ রফিকুল্লাহ বলেন, আমার মেয়ে নাসিমা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল বোলপুর থানার কাকুটিয়াতে। তার নাম ডিলিট হয়ে গেছে। দুবার সব কাগজ জমা দিয়েছি। কি ভুল হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছি না। সেই সকাল থেকে এসেছি। বারবার চরম হয়রানি হচ্ছে।
বোলপুরের বাসিন্দা আশরাফ আলী বলেন, আমার ছেলে আসগর আলী, কাজের সূত্রে দিল্লিতে থাকে। তার সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও আবার অনলাইনে জমা করতে বলেছে। কিভাবে কি হবে? কিছুই পরিষ্কার করে বুঝতে পারছি না
।এদিন দফতরের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বহু মানুষকে। অনেক মা তাঁদের শিশুদের কোলে নিয়ে অপেক্ষা করেন। তাঁদের অভিযোগ, স্পষ্ট নির্দেশ না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়ছেন। এছাড়াও অনেকেই বলেন আমাদের ভোট নিয়েই তো রাজনৈতিক নেতারা লড়বে। এভাবে যদি নাম বাদ চলে যায়, তাহলে কিভাবে ভোট দেব? মনোনয়নের দিনে এসব কাজ বন্ধ রাখাই উচিত ছিল। তাহলে এমন হয়রানি হত না। যদিও এদিন এইসব বিষয়ে সমস্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।