নয়া জামানা, কলকাতা : ফের মাঝ আকাশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় সভা শেষ করে কপ্টারে নবগ্রাম যাওয়ার পথেই বিপত্তি ঘটে। প্রবল ঝড়বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মাঝপথ থেকেই ফিরে আসতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত আকাশপথের ঝুঁকি না নিয়ে সড়কপথেই নবগ্রামের সভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন দুপুর ২টো ১০ মিনিট নাগাদ বড়ঞার সভা শেষ করে নবগ্রামের পথে উড়ান দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার। বড়ঞায় আবহাওয়া তখন মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বিপত্তি বাঁধে গন্তব্যে পৌঁছনোর মুখে। নবগ্রামের সভাস্থলে নামার আগেই আকাশ কালো করে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। দুর্যোগের মেজাজ বুঝে কপ্টারের পাইলট আর ঝুঁকি নেননি। নবগ্রামে অবতরণ অসম্ভব বুঝে তিনি কপ্টারের মুখ ঘুরিয়ে পুনরায় বড়ঞায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বড়ঞাতেই নিরাপদ অবতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মাঝ আকাশে দুর্যোগের খবরে সাময়িকভাবে উদ্বেগ ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে। বড়ঞায় ফিরে আসার পর জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, তবে কি আজকের মতো নবগ্রামের জনসভা বাতিল হতে চলেছে? কিন্তু জেদি মেজাজে সেই জল্পনা উড়িয়ে দেন নেত্রী। আকাশপথ প্রতিকূল হওয়ায় তিনি তৎক্ষণাৎ সড়কপথ বেছে নেন। বড়ঞা থেকে গাড়ি নিয়েই নবগ্রামের সভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে আবহাওয়ার এই চোখরাঙানি এই প্রথম নয়। গত বৃহস্পতিবারও বীরভূমের দুবরাজপুরে সভা সেরে অন্ডাল থেকে কলকাতায় ফেরার পথে আকাশেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন মমতা। সেদিন বিকেল ৪টে নাগাদ কলকাতায় নামার কথা থাকলেও দুর্যোগের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটতে হয়েছিল তাঁর বিমানকে। বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে তিন বার নামার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন পাইলট। শেষে ৫টা ১৯ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে বিমানটি নামে। সেদিন পাইলটদের বুদ্ধিমত্তার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক তার কয়েক দিনের মাথাতেই মুর্শিদাবাদে ফের একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হলো তাঁকে। তবে দুর্যোগ তাঁর গন্তব্যে পৌঁছনো আটকাতে পারেনি। আকাশপথ থমকে গেলেও চাকার ওপর ভরসা রেখেই জনসংযোগের ময়দানে অটল রইলেন মমতা।