নয়া জামানা,কলকাতা : নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের প্রবল ক্ষোভের মুখে পিছু হটল বিজেপি। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়কে সরিয়ে ডালিম রায়কে প্রার্থী করল গেরুয়া শিবির। মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত বিজেপির চতুর্থ দফার তালিকায় এই রদবদল ঘটিয়ে মোট ১৩টি আসনে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাগদা কেন্দ্রে ঠাকুরবাড়ির বড়বউ সোমা ঠাকুরকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, কংগ্রেস ছেড়ে আসা সন্তোষ পাঠককে নামানো হয়েছে কলকাতার চৌরঙ্গী লড়াইয়ে। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী বাছাই নিয়ে পদ্ম শিবিরে টানাপোড়েন চলছিল। বাকি থাকা ১৯টি আসনের মধ্যে ১৩টির ভাগ্য নির্ধারণ করল দল। ময়নাগুড়িতে কৌশিক রায়ের নাম ঘোষণার পরেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন কর্মীরা। জেলা সভাপতিকে ঘিরেও চলে বিক্ষোভ। কর্মীদের অভিযোগ ছিল, ‘এই বিধায়ককে গত ৫ বছর এলাকায় দেখা যায়নি।’ এককভাবে প্রচার শুরু করলেও স্থানীয় মণ্ডল সভাপতিরা তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রাখছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে শেষমেশ দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ডালিম রায়ের ওপর ভরসা রাখল। উত্তর থেকে দক্ষিণ— এই তালিকায় একাধিক হেভিওয়েট নাম উঠে এসেছে। বাগদা (এসসি) আসনে লড়াই করবেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। এই কেন্দ্রে ‘বউদি বনাম ননদ’ লড়াই ঘিরে এখন সরগরম উত্তর ২৪ পরগনা। সোনারপুর উত্তরে প্রার্থী করা হয়েছে দেবাশিস ধরকে। সিতাই আসনে লড়াই করবেন আশুতোষ বর্মা এবং নাটাবাড়িতে টিকিট পেয়েছেন গিরিজা শঙ্কর রায়। দক্ষিণবঙ্গের শিল্পাঞ্চল থেকে গ্রামীণ এলাকাতেও রণকৌশল সাজিয়েছে বিজেপি। মগরাহাট পূর্বে উত্তম কুমার বণিক এবং ফলতায় দেবাংশু পান্ডার ওপর বাজি ধরেছে দল। হাওড়া দক্ষিণে প্রার্থী হচ্ছেন শ্যামল হাতি। পাঁচলায় রঞ্জন কুমার পাল এবং পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে লড়বেন পীযূষ কান্তি দাস। জঙ্গলমহলের গড়বেতা আসনে প্রদীপ লোধার নাম চূড়ান্ত হয়েছে। বর্ধমানের মেমারি থেকে মানব গুহ এবং বারাবনি কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে অরিজিৎ রায়কে। ময়নাগুড়ির ঘটনা বুঝিয়ে দিল, প্রার্থী নিয়ে কর্মীদের অসন্তোষকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না বিজেপি নেতৃত্ব। স্থানীয় নেতারা সাফ জানিয়েছিলেন, কৌশিক রায় বাদে যে কাউকে প্রার্থী করলে জয় নিশ্চিত। কর্মীদের বক্তব্য ছিল, ‘তিনি কর্মীদের আপদ-বিপদেও পাশে থাকেননি। ময়নাগুড়ির মানুষ তাঁকে পাঁচ বছরে পাননি।’ এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইছে বিজেপি। তবে এখনও ৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেই জট কাটবে বলে আশা করছে রাজনৈতিক মহল। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই তালিকা রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই নতুন সমীকরণ তৈরি করল।
এসএসসি গ্রুপ-ডি পরীক্ষা, মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে পুলিশের জলে ৬ যুবক