নয়া জামানা ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তার প্রভাব যে দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে, সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে সেই আশঙ্কাই প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমান সংকটকে ‘অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘করোনার সময় যেভাবে দেশ লড়াই করেছিল এবারও সেটাই করতে হবে।’ প্রতিটি নাগরিক, রাজ্য ও কেন্দ্র একজোট হয়ে লড়লে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তবে যুদ্ধের আবহে দেশে যাতে কেউ কালোবাজারি বা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে ফায়দা তুলতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মোদী। পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়া এবং পণ্যবাহী জাহাজে হামলা নিয়ে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ ভারত সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পক্ষপাতী। মোদী জানান, তিনি ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংঘাত থামানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়েও আশ্বাস পেয়েছেন তিনি। যুদ্ধের আঁচ থেকে দেশকে বাঁচাতে কেন্দ্র যে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে, তার খতিয়ানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত এক দশকে আমদানির উৎস বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে তেল আসত, এখন ৪১টি দেশ থেকে তা আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের ভাণ্ডারে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে, যা বাড়িয়ে ৬৫ লক্ষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এলপিজি উৎপাদনও প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে যাতে ঘাটতি না হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে সরকারের। কৃষকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের আশ্বস্ত করছি সরকার সব সাহায্য় করবে।’ দেশে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফেরাতেও তৎপর দিল্লি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ভারতীয়কে দেশে ফেরানো হয়েছে। এর মধ্যে ইরান থেকেই ফিরেছেন প্রায় এক হাজার জন, যাঁদের বড় অংশই মেডিক্যাল পড়ুয়া। গালফ দেশগুলিতে সিবিএসই পরীক্ষাও আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পণ্যের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড শক্ত রাখতে সরকার বহুমুখী কৌশল নিয়েছে। সংঘাতের মেঘ ঘনালেও ভারত যে তৈরি, সংসদে দাঁড়িয়ে সেই বার্তাই দিলেন নরেন্দ্র মোদী।
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আঁচ শ্রীলঙ্কা উপকূলেও, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে লাশের সংখ্যা