ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • ‘প্রেসিডেন্ট রুল করে নির্বাচন করতে হচ্ছে !’ কমিশন-বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ মমতার

‘প্রেসিডেন্ট রুল করে নির্বাচন করতে হচ্ছে !’ কমিশন-বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ মমতার

নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্যে অঘোষিত ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হয়ে গিয়েছে। ভোটের মুখে তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের মঞ্চ থেকে এভাবেই নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে একযোগে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি করে রাজ্যের....

‘প্রেসিডেন্ট রুল করে নির্বাচন করতে হচ্ছে !’ কমিশন-বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ মমতার

নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্যে অঘোষিত ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হয়ে গিয়েছে। ভোটের মুখে তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহার....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্যে অঘোষিত ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হয়ে গিয়েছে। ভোটের মুখে তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের মঞ্চ থেকে এভাবেই নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে একযোগে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি করে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এমনকি, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে একটি বিশেষ সম্প্রদায়সহ হিন্দু, মতুয়া ও রাজবংশীদের নাম বাদ দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগও তুলেছেন তিনি। বাংলার মাটি কামড়ে পড়ে থাকা নেত্রীর অভিযোগ, ‘বিজেপির তোতাপাখি’ হয়ে কাজ করছে কমিশন। উত্তরবঙ্গকে ছাঁটাই করে বিহারের অংশ জুড়ে নতুন রাজ্য গড়ার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিন কালীঘাটে দলের ইস্তাহার প্রকাশের কর্মসূচি ছিল। সেখানে শুরু থেকেই তীব্র আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া যায় তৃণমূলনেত্রীকে। ভোটার তালিকায় নাম ওঠা এবং বিবেচনাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সুরে তিনি জানান, প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ পর্যায়ে রয়েছে। সূত্র মারফত তিনি জানতে পেরেছেন, এর মধ্যে ২২ লক্ষ ৬০ হাজার নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২২ লক্ষের মধ্যে ১০ লক্ষ নামই বাদ দিয়েছে শুনেছি!’ তাঁর দাবি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি হিন্দু, মতুয়া ও রাজবংশী ভোটারদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে বলে তিনি সরব হন। মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘ভোটের আগে এই নিষ্পত্তির কাজ শেষ হবে কি না, কে জানে! এই করে করে দিনগুলো নষ্ট করছে।’

প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে মমতার তোপ সরাসরি কেন্দ্রের দিকে। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষাপটে যেভাবে একের পর এক আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা হচ্ছে, তাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। মমতার কথায়, ‘অলরেডি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে। মুখে বলছে না। কিন্তু অ্যাক্টিভিটি প্রমাণ করছে।’ তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের সময় বদলি হতে পারে, কিন্তু তার সীমাবদ্ধতা আছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হয়। তাঁর দাবি, নির্বাচনের কাজে যুক্ত নন এমন সচিবদেরও ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য ও পঞ্চায়েত দফতরের সচিবদের সরিয়ে দেওয়ার ফলে রেশন বণ্টন ও ত্রাণকাজ ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ বলেন, ‘মানুষ খাদ্য পাবে কোথা থেকে? রেশন বন্ধ হয়ে গেলে যেন আমাকে দোষ দেবেন না। আমি তো রেশন দিতে চাই।’

নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির ‘তোতাপাখি’ আখ্যা দিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, পিডব্লিউডি-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকেও পর্যবেক্ষক করে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় রাস্তা মেরামতির কাজে তাঁর বড় ভূমিকা থাকে। মমতার দাবি, রাজ্যের আরও বেশ কয়েকজন আধিকারিককে সরানো হতে পারে। তাঁদের বদলে যাঁদের আনা হচ্ছে, তাঁদের পশ্চিমবঙ্গের কাজ করার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। মমতা অভিযোগের সুরে বলেন, ‘তাঁরা এখানকার মানুষকে চেনেন না, এখানকার ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি জানেন না। নির্বাচনী বুথ, ব্লক, জেলা সম্পর্কে ধারণা নেই। কে দেখবে এ সব?’ তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এরপর রাজ্যে কোনও দুর্ঘটনা বা ঘটনা ঘটলে তার দায় বিজেপি সরকারকেই নিতে হবে। মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘লজ্জা! প্রেসিডেন্ট রুল করে মোদীজিকে বাংলায় নির্বাচন করাতে হচ্ছে! বাংলার মানুষকে এত ভয়!’

মমতার দাবি, বাংলার উন্নয়ন স্তব্ধ করতে এবং রাজ্য ভাগ করতেই এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তিনি বলেন, ‘ওদের প্ল্যান আছে, উত্তরবঙ্গ বাদ দিয়ে বিহারের কিছু অংশ নিয়ে আবার নতুন রাজ্য তৈরি করার।’ ভবিষ্যতে এনআরসি, সেন্সাস এবং ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি জনগণকে সতর্ক করেন। তাঁর মতে, ‘এ দেশে সংবিধান, আইন— সব কিছু মোদী সরকার কিনে নিয়েছে। আগামী বার মোদী সরকার জিতবে না। ক্ষমতায় আসবে না। তাই ডিলিমিটেশন, এনআরসি এবং সেন্সাসের নাম করে আরও মানুষের নাম বাদ দেওয়াই ওদের পরিকল্পনা।’

পাল্টা দিতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবিরও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে ‘শহিদ হওয়ার মরিয়া চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছেন। শমীকের দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি শাসনের দোহাই দিয়ে সহমর্মিতা আদায়ের চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী বার বার রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা বলছেন, কারণ তিনি শহিদ হতে চাইছেন। তিনি মাটি চেনেন। তিনি বুঝতে পারছেন, নির্বাচনে কিছুতেই জিততে পারবেন না। তাই এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন, যাতে ৩৫৬ ধারা জারি হয়ে যায়। আর তিনি নিরাপদে পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে দিল্লি গিয়ে বলতে পারেন, আমার সরকারটাকে ফেলে দিল।’ শমীকের পাল্টা দাবি, মানুষই এখন এই সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে সত্যিকারের রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছে। সবমিলিয়ে, তৃণমূলনেত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে ভোটের মুখে রাজ্যের রাজনীতিতে পারদ চড়ল কয়েক গুণ। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং রাজ্য ভাগের তত্ত্বকে সামনে রেখে মমতা যে মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে তীব্র করতে চাইছেন, তা এদিন তাঁর কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফাইল ফটো।


 

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর