নয়া জামানা ডেস্ক : হাইভোল্টেজ ব্রিগেড সভার আগে সরগরম মহানগরী। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে যখন গেরুয়া শিবির সাজো সাজো রব তুলেছে, ঠিক তার আগের রাতেই শহর ছেয়ে গেল শাসকদলের পাল্টা হোর্ডিংয়ে। বকেয়া পাওনার দাবিতে সরব হয়ে সরাসরি ‘গো ব্যাক মোদী’ স্লোগান তুলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ল তৃণমূল। শহরের রাজপথ থেকে মা উড়ালপুল সর্বত্রই এখন হোর্ডিংয়ের লড়াই। বিজেপির জনসভার প্রচারকে পাল্লা দিতে তৃণমূল হাতিয়ার করেছে বকেয়া টাকার অঙ্ককে। হোর্ডিংয়ে স্পষ্ট লেখা হয়েছে ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকার হিসেব। শাসকদলের অভিযোগ, বাংলার ন্যায্য পাওনা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা স্লোগান ‘মোদী নিচ্ছে, দিদি দিচ্ছে’ এবার হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে আমজনতার দরবারে পৌঁছে দিতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই বাংলার প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে বিজেপি সরকার। ১০০ দিনের কাজ থেকে আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা কিংবা জল-জীবন মিশন সব ক্ষেত্রেই বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক আখ্যানকে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করতেই মোদীর সফরের আগের রাতকে বেছে নিয়েছে শাসকদল। জনসভার আগে কার্যত ধারণার লড়াইয়ে নামল দুই পক্ষ। বিজেপি যখন ‘পাল্টানো দরকার’ বলে প্রচারে নেমেছে, তৃণমূল তখন পাল্টা উন্নয়নের খতিয়ান ও বকেয়ার দাবিতে সরব। রাজ্য সরকারের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও তারা থেমে নেই। কেন্দ্রীয় অনুদান ছাড়াই ৩২ লক্ষ মানুষকে আবাস যোজনার কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়াও ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম ও মফস্সলে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সভার আগে বকেয়ার এই হিসেব নিকেশ শহরবাসীর নজর কেড়েছে। তৃণমূল দেখাতে চাইল ধারণা তৈরির রাজনীতি। বিজেপি যখন হোর্ডিং দিয়ে বলছে ‘পাল্টানো দরকার’, তখন তৃণমূল পাল্টা বকেয়ার হিসাব দিয়ে বোঝাতে চাইল রাজ্যের উন্নয়নে বিজেপি টাকা না-দিলেও তৃণমূল দিয়েছে। সবমিলিয়ে,প্রধানমন্ত্রীর পা রাখার আগেই হোর্ডিং যুদ্ধের তীব্রতায় কলকাতার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিক্ষোভ,কালো পতাকা ও গো ব্যাক স্লোগান