নয়া জামানা,খড়গপুর : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কালো মেঘ এবার আছড়ে পড়ল খড়গপুর আইআইটি-র হেঁশেলে। ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে অশোধিত তেল ও এলপিজি সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের আবহে ১৫ হাজার পড়ুয়ার খাবার সুনিশ্চিত করতে কার্যত কোমর বেঁধে নামল আইআইটি কর্তৃপক্ষ। হস্টেলের ডাইনিং সচল রাখতে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণার দ্বারস্থ হয়েছে দেশের এই প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আইআইটি-র তরফে ইতিমধ্যেই জেলাশাসককে দুটি বিশেষ সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে খবর। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আইআইটি খড়গপুর চত্বরে ২৫টি রেসিডেন্সিয়াল হল বা হস্টেল রয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার পড়ুয়ার জন্য প্রাতরাশ থেকে শুরু করে দু’বেলার মূল আহার ও টিফিন তৈরি হয়। হস্টেলের ক্যান্টিনগুলিতে নিরামিষ ও আমিষ খাবারের পাশাপাশি পড়ুয়াদের ফরমায়েশি পদও রান্না করা হয় নিয়মিত। এই বিপুল কর্মকাণ্ড সামলাতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হলে সিলিন্ডারের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হলে হস্টেলের স্বাভাবিক জনজীবন ও পঠনপাঠন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ।
আইআইটি খড়গপুরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক প্রতীক ধামা জানিয়েছেন, বর্তমানে হস্টেলগুলিতে গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই। তবে চারপাশের পরিস্থিতি বিচার করে আগাম সতর্ক হতেই জেলাশাসককে দুটি ‘প্রিকশান চিঠি’ দেওয়া হয়েছে। মূলত সংকটের আঁচ পড়ার আগেই বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। যদিও এই চিঠির বিষয়ে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণার সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তবে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আইআইটি-র এই সম্ভাব্য সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও এজেন্সিগুলির সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। কেবল আইআইটি নয়, জেলার অন্যান্য স্কুল হস্টেল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানেও যাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে প্রশাসন।
যুদ্ধের প্রভাবে সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় বিশ্ববাজারে জোগান কমেছে। কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই গার্হস্থ্য সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই সময়সীমা ২৫ দিন এবং গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে নিয়মের কড়াকড়ি না থাকলেও জোগান না থাকায় সরবরাহ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। ফলে বন্ধ হচ্ছে রেস্তরাঁ ও বড় মিষ্টির দোকান। প্রভাব পড়ছে সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিলেও। অনেক ধর্মীয় স্থানে অন্নভোগ ও প্রসাদ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার পর্যাপ্ত মজুতের দাবি করলেও অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় আগেভাগেই সাবধানী পথে হাঁটল আইআইটি খড়গপুর। ফাইল ফটো।