নয়া জামানা ডেস্ক : আজই শহর ছাড়ছেন সিভি আনন্দ বোস। তবে যাওয়ার আগে রাজ্যবাসীকে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, পদ ছাড়লেও বাংলা ছাড়ছেন না তিনি। তাঁর হৃদয়ে পশ্চিমবঙ্গ চিরকাল ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হয়েই থাকবে। বুধবার বেলা তিনটে নাগাদ কলকাতার পাট চুকিয়ে কেরলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা বিদায়ী রাজ্যপালের। তার ঠিক আগেই এক দীর্ঘ ও আবেগপূর্ণ বার্তায় রাজ্যবাসীর প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা উজাড় করে দিলেন তিনি।
গত ৫ মার্চ আকস্মিকভাবেই পদত্যাগ করেছিলেন সিভি আনন্দ বোস। ব্যক্তিগত কারণেই এই অব্যাহতি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তারপর দিল্লি হয়ে কলকাতায় ফিরলেও রাজভবনের বদলে উঠেছিলেন দক্ষিণ কলকাতার এক অতিথিশালায়। মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আজ বোস যখন শহর ছাড়ছেন, ঠিক তখনই নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির কলকাতায় পৌঁছনোর কথা রয়েছে।
রাজ্যবাসীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বোস জানিয়েছেন, রাজ্যপাল পদের মেয়াদ ফুরোলেও এ রাজ্যে তাঁর যাত্রা শেষ হয়ে যায়নি। তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যপাল পদে আমার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবুও পশ্চিমবঙ্গে আমার যাত্রা এখনও শেষ হয়নি। আমি আমার দ্বিতীয় বাড়ি-পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুক্ত থাকব।’ কলকাতার রাজভবন থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে বাংলার সাধারণ মানুষের থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা বারবার ফিরে এসেছে তাঁর কলমে।
তিন বছরের কার্যকালে বাংলার আনাচ-কানাচ ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতাই ছিল তাঁর চিঠির মূল সুর। গ্রাম থেকে শহর, সাধারণ মানুষের কুঁড়েঘর থেকে পণ্ডিতদের আসর সর্বত্রই তিনি ঈশ্বরের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি ঈশ্বরকে খুঁজতে চেয়েছিলাম। কলকাতার অলি-গলিতে, গ্রাম ও শহরের রাস্তায়, শিশুদের উজ্জ্বল উৎসাহী চোখে, বয়স্কদের স্নেহপূর্ণ দৃষ্টিতে ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছি।’
বিদায়ী বার্তায় উঠে এসেছে মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গও। গান্ধীজির সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে তিনি জানান, আজ তিনিও অনুভব করছেন যে বাংলা তাঁকে ছাড়বে না এবং তিনিও বাংলাকে ছাড়তে পারছেন না। রবীন্দ্রনাথের কবিতা উদ্ধৃত করে সাধারণ মেহনতি মানুষের জয়গান গেয়েছেন তিনি। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর যে আত্মিক টান তৈরি হয়েছে, সেই ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট চুম্বকত্ব’ই তাঁকে বারবার এ রাজ্যের কথা মনে করাবে বলে জানিয়েছেন বোস।
চিঠির শেষে বাংলার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি লিখেছেন, ‘আগামী দিনগুলিতে বাংলা গৌরবের উচ্চতায় পৌঁছাক। সকলের জন্য সমৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্য বয়ে আনুক।’ মা দুর্গার আশীর্বাদ ও ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিয়েই নিজের বিদায়ী বক্তব্য শেষ করেছেন তিনি। বাংলার মানুষের প্রতি তাঁর এই শেষ বার্তা আসলে এক নতুন শুরুরই ইঙ্গিত দিয়ে গেল।