নয়া জামানা ডেস্ক : দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ ১৩ বছর কোমার অন্ধকারে ডুবে থাকা যুবক হরীশ রানাকে নিষ্কৃতি দিতে ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ দিল্লির এইমসের তত্ত্বাবধানে হরীশের জীবনদায়ী ব্যবস্থা বা লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ভারতের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে ‘প্যাসিভ ইউথ্যানাসিয়া’ বা পরোক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যুর এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল বলে মত ওয়াকিয়াবহল মহলের মতে । ২০১৩ সাল থেকে হরীশের জীবন এক নিথর যন্ত্রণার নাম। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল এই ছাত্রটি হস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পান। সেই থেকে তিনি শয্যাশায়ী। কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত হরীশের বাইরের জগতের সঙ্গে কোনও সংযোগ ছিল না। এমনকি নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কেও তাঁর কোনও চেতনা ছিল না। এই দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ছেলের বিছানার পাশে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা। অবশেষে সন্তানের অন্তহীন কষ্ট লাঘব করতে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন। শীর্ষ আদালত তাঁর রায়ে শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’-এর সেই অমর পঙ্ক্তি ‘টু বি অর নট টু বি’ উল্লেখ করে হরীশের শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করেছে। আদালত জানিয়েছে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার যেমন আছে, তেমনই সম্মানের সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারও একটি মৌলিক অধিকার। হরীশের মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তাঁর সুস্থ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এর পরেই আদালত কৃত্রিম উপায়ে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার প্রক্রিয়া বন্ধ করার অনুমতি দেয়। তবে এই নিষ্কৃতিমৃত্যু কার্যকর হবে এক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে। বিচারপতিরা নির্দেশ দিয়েছেন, হরীশকে দ্রুত দিল্লির এইমসে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে ভর্তি করতে হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে এবং ধাপে ধাপে তাঁর লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম ও কৃত্রিম খাবার বন্ধ করা হবে। যাতে হরীশের মর্যাদা ও সম্মান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, ভারতে ‘অ্যাক্টিভ ইউথ্যানাসিয়া’ বা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো নিষিদ্ধ থাকলেও, পরোক্ষভাবে চিকিৎসা বন্ধ করে মৃত্যুবরণ করার অধিকার স্বীকৃত। রায়ে হরীশের বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন বিচারপতিরা। তাঁরা জানান, এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে, রোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর জন্য কোন পথটি সবচেয়ে মঙ্গলজনক। ২০১৮ সালের ‘কমন কজ’ বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলার ঐতিহাসিক রায়কে হাতিয়ার করেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালত কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছে, নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে দেশে একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ আইন প্রণয়নের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করার। ১৩ বছরের এক অবশ লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে হরীশ এখন অনন্ত শান্তির পথে।
নিয়োগ দুর্নীতিতে স্বস্তি শান্তিপ্রসাদের, শর্তের বেড়াজালেই জামিন দিল কোর্ট