কার্তিক ভান্ডারী, নয়া জামানা, বীরভূম: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করল বিশ্বভারতী। রবিবার এই উপলক্ষে রবীন্দ্রভবনে ‘ভারতী নারী থেকে নারায়ণী’ এই শীর্ষক ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত হয় এক বিশেষ প্রদর্শনী।এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বিশ্বভারতীর মহিলা সেলের উদ্যোগে রবীন্দ্রভবন। ঠাকুর পরিবারের নারীদের জীবন, কাজ এবং সমাজে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এই প্রদর্শনী স্থায়ীভাবে দর্শনার্থীরা দেখতে পারবেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীটি খোলা রাখা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিনের এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ ও কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায়।
শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবন মিউজিয়ামে প্রদর্শনী কক্ষে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ঠাকুরবাড়ির একাধিক বিশিষ্ট নারীর জীবন ও কর্মকাণ্ডের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সারদা দেবী, জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, কাদম্বরী দেবী, মৃণালিনী দেবী, ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী, প্রতিমা দেবীর মতো একাধিক নারী। এই প্রদর্শনীতে তাঁদের বিরল আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিল, চিঠিপত্র, জীবনপঞ্জি সহ নানা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ঠাকুরবাড়ির এই নারীদের জীবনসংগ্রাম, সমাজ সংস্কারে তাঁদের ভূমিকা ও সংস্কৃতি জগতে তাঁদের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারছেন।
উল্লেখ্য, উনিশ শতকের নবজাগরণের সময় বাংলার সমাজ-সংস্কৃতির বিকাশে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, সেই পরিবারের নারীরাও সমানভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন। সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও সমাজচিন্তায় তাঁদের অবদান দীর্ঘদিন আড়ালে থাকলেও এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেই ইতিহাসকে সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। জোড়সাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও সমাজ—দুই ক্ষেত্রেই তাঁদের প্রভাব ছিল গভীর। পর্যটকদের মধ্যে এদিন এই প্রদর্শনী দেখে পৌলমী সরকার, নাজমা খাতুন বলেন, আগেও বিশ্বভারতী ঘুরতে এসে রবীন্দ্র ভবনে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত নানা জিনিস দেখেছি। এবার ঠাকুরবাড়ির মেয়েদের নিয়ে প্রদর্শনীতে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এই প্রদর্শনী ঘিরে ছাত্রছাত্রী, গবেষক, পর্যটক এবং সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই ঠাকুর পরিবারের নারীদের সম্পর্কে নতুন তথ্য জানতে পেরে বিশ্বভারতীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ঠাকুরবাড়ির মহিলারা নানা ক্ষেত্রে প্রগতিশীল ভূমিকা পালন করেছিলেন। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, মীরা দেবী, ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী ও স্বর্ণকুমারী দেবীর মতো ব্যক্তিত্বরা সাহিত্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, বাঙালির শাড়ি পরার ধরণ এবং রান্না বা পাকশিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নিয়েছিলেন। সেই অবদানই এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটি স্থায়ী প্রদর্শনী হিসেবেই রাখা হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিশেষ দিনেই এর উদ্বোধন করা হয়েছে, ফলে দর্শনার্থীরা আগামীতে যে কোনও সময় এলে এই প্রদর্শনী দেখতে পারবেন।