নয়া জামানা, কলকাতা: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হল একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির চাকরিপ্রার্থীদের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) সদর দপ্তরে প্রথম পর্যায়ের এই কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ৭০ জন যোগ্য প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হলো কাঙ্ক্ষিত সুপারিশপত্র। এর মধ্যে যেমন রয়েছেন নতুন চাকরিপ্রার্থী, তেমনই রয়েছেন আদালতের নির্দেশে চাকরি ফিরে পাওয়া ‘যোগ্য’ প্রার্থীরাও। যদিও নথিতে কিছু গরমিল থাকায় এদিন দুই-তিনজনকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।রাজ্যে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে মোট ১২,৪৪৫টি শূন্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে ৫০০টি শূন্যপদের তালিকা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এসএসসি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে সাতটি বিষয়ের মোট ১৮২ জন প্রার্থীকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। প্রথম দিনেই সুপারিশপত্র হাতে পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রার্থীরা। রাজারহাটের বাসিন্দা নৃতত্ত্বের ছাত্রী নাদিরা কালামের কথায়, প্রথমবার পরীক্ষায় বসেই সুযোগ পেয়েছিলাম। অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু আজ সুপারিশপত্র পেয়ে সব চিন্তা দূর হলো। এখন শুধু স্কুলে যোগ দেওয়ার অপেক্ষা।প্রথম ধাপ শুরু হলেও দ্বিতীয় পর্বের কাউন্সেলিং কবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১ ও ৮ মার্চ রাজ্যজুড়ে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদের বড় মাপের পরীক্ষা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রায় ১৭০০টি ভেন্যুতে এই পরীক্ষা পরিচালিত হবে। কমিশনের কর্মীরা বর্তমানে সেই পরীক্ষা পরিচালনার কাজে ব্যস্ত। চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হওয়ার আগে অর্থাৎ মার্চের দ্বিতীয়ার্ধের আগে পুনরায় কাউন্সেলিং শুরু করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।অনেকে আশা করেছিলেন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই হয়তো প্রার্থীরা স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু সিদ্ধার্থবাবু সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, পরীক্ষা পরবর্তী অনেক দায়িত্ব থাকে এবং বিপুল সংখ্যক প্রার্থীকে সামলানো এই মুহূর্তে কঠিন। ফলে ভোটের আগে সব যোগ্য প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।নিয়োগ ঘিরে বিতর্কের শেষ ছিল না। বিশেষ করে চাকরিহারা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া নিয়ে নতুন প্রার্থীরা তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। পাশাপাশি আসনসংখ্যা বৃদ্ধির দাবিও জোরালো ছিল। তবে এদিন কাউন্সেলিং চত্বরে দেখা গেল ভিন্ন ছবি। যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি ফিরে পাওয়ার আনন্দ দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন নতুনরাও। দীর্ঘদিনের লড়াই আর দুশ্চিন্তা শেষে প্রার্থীদের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু আর মুখে যুদ্ধজয়ের হাসি।
আরও পড়ুন-
ফের বিমান দুর্ঘটনা, রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে ভেঙ্গে পড়ল মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমান