টিনা প্রামাণিক, নয়া জামানা, মালদহ: মালদার রতুয়া ও ভূতনী অঞ্চলের দীর্ঘদিনের তীব্র নদী ভাঙন এবং ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ময়দানে নামল রাজ্য সরকার। নদী ও ভাঙন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির লক্ষ্যে শনিবার মালদায় পৌঁছান আইআইটি কানপুর ও খড়গপুরের এক যৌথ প্রতিনিধি দল।
এদিন জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বিশেষজ্ঞ দল রতুয়ার কাহালা গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যাপুর ঘাট থেকে লঞ্চে চেপে সমীক্ষা অভিযান শুরু করেন। তারা ফুলহর ও গঙ্গা নদীর প্লাবন ও ভাঙনপ্রবণ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীপথে ঘুরে দেখেন। কাহালা সূর্যাপুর ঘাট থেকে রতুয়ার মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পরিদর্শনের পর প্রতিনিধি দলটি মহানন্দটোলার পশ্চিম রতনপুর হয়ে মানিকচকের ভূতনীর বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল খতিয়ে দেখেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর কালুটনটোলায় বাঁধ ভেঙে ভূতনীর একটি বড় অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। পর পর তিন বছর ধরে একই ভাবে বাঁধ ভেঙে জল ঢোকায় সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক আকার ধারণ করে। তাই সেচ দপ্তর এই নির্দিষ্ট অংশটিতে বিশেষ নজর রেখে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষা করায়। যদিও সফর চলাকালীন আইআইটির প্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
মালদা ও মুর্শিদাবাদের নদীভাঙন রোধে রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ৩৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে একা মালদা জেলাই পাচ্ছে ১১০০ কোটি টাকা। নদী বিশেষজ্ঞদের এই বিশেষ সমীক্ষা রিপোর্টের ওপর নির্ভর করেই গঙ্গা ও ফুলহরের ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণ ও মালদার দীর্ঘমেয়াদী দুর্যোগ মোকাবিলার অ্যাকশন প্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে।