নয়া জামানা,বীরভূম: বীরভূমের মহাশক্তিপীঠ তারাপীঠের শতাব্দীপ্রাচীন রথযাত্রা এবার রাজ্য সরকারের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার অনুদানের তালিকায় স্থান পেল। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র ধর্মীয় রীতির স্বীকৃতি হিসেবে তারাপীঠের মা তারার রথের জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান মঞ্জুর করেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্য দিয়ে এই ব্যতিক্রমী রথযাত্রাকে ঘিরে যে কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তারও অবসান ঘটেছে।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, অনুদান পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তারাপীঠের রথযাত্রার বিশেষত্বই তাকে রাজ্যের অন্যান্য রথযাত্রা থেকে আলাদা করেছে। সাধারণভাবে রথযাত্রা বলতে যেখানে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথারোহণের প্রথা প্রচলিত, সেখানে তারাপীঠে রথে আরোহন করেন মহাশক্তি মা তারা। এই অনন্য ধর্মীয় রীতিই তারাপীঠের রথযাত্রাকে বাংলার অন্যতম ব্যতিক্রমী ঐতিহ্যে পরিণত করেছে।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার দিন মা তারা গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে রথে আরোহণ করে ভক্তদের কাছে আসেন। সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর রথযাত্রার দিন তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। দূরদূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীরা রথ টানার পাশাপাশি মায়ের দর্শন ও আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে এই উৎসবে অংশ নেন।
এই স্বতন্ত্র ধর্মীয় রীতির কারণেই অনেকে মনে করেছিলেন, রাজ্য সরকারের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার অনুদানের আওতায় তারাপীঠের রথ আদৌ স্থান পাবে কি না। তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার তারাপীঠের রথযাত্রার ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে অনুদান মঞ্জুর করেছে। ফলে রাজ্যের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার পাশাপাশি এবার সরকারি সহায়তা পাচ্ছে তারাপীঠও।মা তারা সেবাইত সংঘের সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জি বলেন, তারাপীঠের রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বহু শতাব্দীর ঐতিহ্য ও মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। রাজ্য সরকারের এই স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা আগামী দিনে রথযাত্রার আয়োজনকে আরও সুসংগঠিত করতে সাহায্য করবে।প্রতি বছর তারাপীঠের রথযাত্রাকে ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম হয়। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও এই উৎসবের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি অনুদানের ফলে আগামী দিনে রথযাত্রার পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উৎসবের সামগ্রিক আয়োজন আরও উন্নত হবে, যা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।