সীতারাম মুখার্জি, নয়া জামানা, আসানসোল: আসানসোল জেলা হাসপাতালে শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ‘নিউট্রিশন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার’ বা পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্র (এনআরসি)। শুক্রবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ ইউনিটের উদ্বোধন করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মান উন্নয়নে এই কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মূলত ৫ বছর বয়স পর্যন্ত যে সমস্ত শিশুরা চরম অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে, তাদের সুস্থ করে তুলতেই এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের উপর তলায় আপাতত ১০টি শয্যা বা বেড নিয়ে এই ইউনিটটি তৈরি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের ন্যূনতম ১৪ দিন এই ইউনিটে রেখে বিশেষ চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি মায়েরা যাতে সার্বক্ষণিকভাবে তাঁদের সন্তানের পাশে থাকতে পারেন, তারও সুব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে। মায়েদের সুবিধার্থে এই ইউনিটের ভেতরেই একটি নির্দিষ্ট ‘ফিডিং জোন’ বা স্তন্যপান করানোর জায়গা তৈরি করা হয়েছে।
শিশুদের হাসপাতালের পরিবেশ থেকে দূরে রেখে ঘরোয়া ও আনন্দদায়ক পরিবেশ দিতে এই কেন্দ্রের এক প্রান্তে প্লে-স্কুলের আদলে একটি বিশেষ শিশু-উদ্যান বা খেলার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। যেখানে শিশুদের মন ভালো রাখার জন্য মজুত রয়েছে হরেক রকমের রঙিন খেলনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) ডাঃ মহঃ ইউনুস, জেলা হাসপাতালের নবনিযুক্ত সুপার ডাঃ তপন কুমার বিশ্বাস এবং বিদায়ী সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস সহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান যে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করতে সরকার প্রতিনিয়ত একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আসানসোল জেলা হাসপাতালের ওপর শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, পার্শ্ববর্তী জেলা ও প্রতিবেশী রাজ্যের বহু মানুষও চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন। ফলে এই নতুন পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রটি চালু হওয়ার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বহু সাধারণ ও দরিদ্র পরিবার বিশেষভাবে উপকৃত হবে।
পুরুলিয়ায় হাসপাতালের বেহাল দশা, স্মারকলিপি প্রদান ও গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ