প্রদীপ কুণ্ডু, নয়া জামানা, তুফানগঞ্জ : কোচবিহারের তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের বালাকুঠি গ্রামের মূক ও বধির কিশোরী মায়া বর্মনের জীবন যেন এক রূপকথা। ২০১৫ সালে অভিমানে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে থানায় ডায়েরিও করা হয়নি। ১১ বছর পর ২০২৬ সালে পুলিশের ফোনে খবর আসে, মায়া এখন হাওড়ার বাগনানের ‘চির নবীন চিলড্রেনস হোম’-এ আছেন। শিক্ষক মুকুল বর্মনের সাহায্যে পরিবার গিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনে।
তবে মায়ার গল্প এখানেই শেষ নয়। শিশু নিবাসেই তার নতুন জীবন শুরু। সেখানেই ভলিবলের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে অদম্য পরিশ্রমে নিজেকে তৈরি করেন জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় হিসেবে।
২০২৩ সালের জুনে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত স্পেশাল অলিম্পিকস ওয়ার্ল্ড গেমস-এ ভারতীয় মহিলা ভলিবল দলের সদস্য হিসেবে মাঠে নামেন মায়া। সেখানেই স্বর্ণপদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন এই বিশেষভাবে সক্ষম ক্রীড়াবিদ। উত্তরবঙ্গ তথা কোচবিহার জেলার গর্ব হয়ে ওঠেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই সাফল্যের খবর বাড়ি ফেরার পর জানাজানি হয়। সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘প্রয়াস – একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার’ তার বাড়িতে গিয়ে সংবর্ধনা জানায়। ফুল ও সম্মাননা দিয়ে সম্মানিত করা হয় মায়াকে।
সংস্থার পক্ষ থেকে রাজ্যের নারী ও শিশু সুরক্ষা মন্ত্রী মালতী রাভা রায়ের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। মায়ার মতো প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ যেন সরকারি সহায়তা, উন্নত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক নিরাপত্তা পান। ভবিষ্যতে যাতে তার খেলার পথে কোনো বাধা না আসে, সেই দাবিও তোলা হয়েছে।
মায়া বর্মনের লড়াই শুধু একটি পরিবারের মেয়ের ফিরে আসা নয়। এটি স্বপ্ন দেখার সাহস, হার না মানার জেদ এবং অধ্যবসায়ের গল্প। তার এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
জনগণের দুয়ারে বিধায়ক, বিজয় মিছিলে সংযমের বার্তা দিয়ে জনসংযোগ রাজেশ মাহাতোর