কার্তিক ভান্ডারী, নয়া জামানা, বীরভূম: বুধবার বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ইলামবাজারে রোড শো ছিল অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারীর। এই উপলক্ষে সেখানে অনুব্রত মণ্ডলও উপস্থিত ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের সাঁজোয়া গাড়ি দেখে তিনি বলেন, বাপের জন্মে এমন সাঁজোয়া গাড়ি দেখিনি। তার এই মন্তব্য জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়।এদিন ইলামবাজার কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দেব (অভিনেতা)-কে এক ঝলক দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। রাস্তাজুড়ে মানুষের ভিড় এতটাই ছিল যে অনেক জায়গায় যান চলাচল প্রায় থমকে যায়। খোলা গাড়িতে চেপে প্রচারে নামেন দেব, তার সঙ্গে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল ও বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ।ইলামবাজারের বিভিন্ন রাস্তায় সেই প্রচার এগোতে থাকলে কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো ছিল।এই বিপুল জনসমাগমকে সামনে রেখে অনুব্রত মণ্ডল সরাসরি বলেন, কয়েক লক্ষ্য মানুষ—এ ঠেলে যাওয়া সম্ভব? এখানে মোটামুটি ৫৫ হাজার ভোটে জিতবো। আপনারা তো সাংবাদিক, আপনাদের কি মনে হয়? লোকের জমায়েত বলে দিচ্ছে ভোট হয়ে গেছে। হ্যাঁ, আবার কি ভোট করবে?তিনি আরও বলেন, দেব আমাকে বলল—দাদা, তোমাকে এগিয়ে খোঁজ করলাম, বললাম আমি ইলামবাজারে ছিলাম। ও বলল, ওখানে ফাটাফাটি লোক হয়েছিল। এরপর বিজেপিকে আক্রমণ করে অনুব্রত বলেন, বিজেপি যেটা করছে ওটা ওদের মুখে বুলি। ওদের তো লোকজন নাই, মিডিয়া আছে। ভয় দেখানো আছে। পুলিশকে ভয় দেখাচ্ছে। হ্যাঁ, পুলিশকে ভয় দেখাচ্ছে।সাঁজোয়া গাড়ি প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ওই যে কীসব গাড়ি দেখলাম ইলামবাজারে, সাজোয়া না ফাজোয়া গাড়ি—এ বাপের জীবনে দেখিনি। এগুলো তো যুদ্ধে ব্যবহার হয়। এখানে তো ধর এক ছোটখাটো যুদ্ধ হতে পারে। আমেরিকার সঙ্গে ইন্ডিয়ার, তার জন্যই এনেছে ওগুলো মনে হয়( মজার ছলে )।এদিন তিনি নিজের কর্মসূচি সম্পর্কেও বলেন, বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বর যাব। হাওড়া যাব, হুগলি যাব। সব তো হয়ে গেছে, নির্বাচনের আগে। সব জায়গাতে করিয়েছি। প্রত্যেক জায়গায় বড় বড় সভা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যা হয়েছে, তাই হয়েছে। কোনো জায়গাতে বাদ নাই—খয়রাশোল থেকে ইলামবাজার থেকে সিউড়ি থেকে রাজনগর থেকে কোনো জায়গায় বাদ নাই। মুরারই থেকে নলহাটি থেকে কোনো জায়গায় বাদ নাই। সবশেষে তিনি বলেন, দেখো একটা কথা বলি—পশ্চিমবঙ্গ হচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জায়গা। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার কীভাবে ঝাঁপাতে হয় সেটা জানে।এইসব গাড়ি-ফাড়ি সব টাইগারে খেয়ে নেবে।